- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বন্যায় সবজির ব্যাপক ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সবজি ক্ষেতের। গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা অবস্থায় জেলার অধিকাংশ কৃষকের। জেলার গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষয় ক্ষতির পরিমান টাকার অংকে ৭৯ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকার উপরে। আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে কৃষকদের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। সেই সাথে কৃষি প্রণোদনার আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সহায়তা করা হবে বলেও জানানো হয়।
সুনামগঞ্জের সবকয়টি এলাকায় কম বেশি সকল ধরনের গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ হয়। হাজার হাজার কৃষক লাউ, বেগুন, শসা, কুমড়া, করলা, ঝিঙা, টমেটো, কাচামরিচ, পেঁপেসহ নানা জাতের গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তাদের উৎপাদিত সবজি জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায় পাঠানো হয়। তবে এবারে বন্যায় সুনামগঞ্জের মোট ১১৪১.৪ হেক্টর ফসলি জমির ১৫ হাজার ৯৭৯ মেট্টিক টন সবজির ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে সবচেয়ে বেশি সবজির ক্ষতি হয়েছে সদর উপজেলায়। ক্ষতির পরিমান ২৫ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা। নষ্ট হয়েছে ৩৬৭ হেক্টর জমির ৫ হাজার ১৩৮ মেট্টিক টন সবজি। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ১৭৩ হেক্টর জমির ১২ কোটি ১১ লক্ষ টাকার ২ হাজার ৪২২ মেট্টিক টন সবজির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভপুর, তাহিরপুর, ছাতক সহ জেলার ১১ উপজেলায় মোট ১১৪১.৪ হেক্টর জমির ৭৯ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকার সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্বম্ভপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের সবজি চাষি আব্দুল আওয়াল জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ করে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ৬ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা, আলু, বেগুন সহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছি। যার মধ্যে ১ বিঘা শসা ও ১ বিঘা টমেটো ক্ষেতে ফুল চলে আসছিলো। কিছুদিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহ শুরু হতো। কিন্তু বন্যার এক ধাক্কায় ৩ লক্ষ টাকার ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। এখন সরকারের সাহায্য ছাড়া আর সবজি চাষ সম্ভব নয়।
তাহিরপুর উপজেলার বাধাঘাট ইউনিয়নের মুসলিম মিয়া জানান, তিনি লক্ষাধিক টাকা ঋণ করে জমিতে কালা বেগুন ও শসা লাগিয়েছিলেন। কিন্তু চোখের সামনে গাছগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিভাবে আবার চাষ করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, বন্যায় আমাদের শুধু সবজির ক্ষতি হয়ে ৭৯ কোটি টাকার উপরে। বন্যার ক্ষতি কাটাতে চাষিদের আগাম সবজি চাষের পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া ৬৮ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে রবি মৌসুমে প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা উপজেলা ওয়ারী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করার কাজ সম্পন্ন করেছি।

  • [১]