- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বন্যা-উত্তর পরিস্থিতি এসএমই শিল্প পুনর্বাসনও গুরুত্ব পাক

গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের বন্যা পরিস্থিতিকে বলা হচ্ছে বড় ধরনের বিপর্যয়। অপ্রত্যাশিত এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে একদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক ও রেল অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে বন্যা আক্রান্ত হয়ে ঘরবাড়ি হারিয়েছে লাখো মানুষ। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এবারের বন্যাকে তুলনা করা হচ্ছে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যার সঙ্গেও। ১৯৮৮ সালের বন্যায় দুই হাজারের বেশি লোকের প্রাণহানি হয় আর ১৯৯৮ সালে মৃতের সংখ্যা ছিল এক হাজারের বেশি। এবারের বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৩২ হলেও বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ। প্লাবিত হয়েছে ৩৯টি জেলার ২৪ হাজার ৭১১ একর এলাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উঠতি ফসলের। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের করণীয় বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছে সরকার। সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বা আংশিক হয়েছে, এমন জমির ক্ষেত্রে বন্যার পানিতে ভেসে আসা কচুরিপানা, পলি, বালি ও আবর্জনা যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব এলাকায় বন্যায় জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে বীজতলা করা সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে চারা উত্পাদন করতে হবে। বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া ধানগাছের যাবতীয় পরিচর্যা যেমন— আগাছা দমন, পোকামাকড় ও রোগাক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা, সুষম পরিমাণে সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা করতে হবে ইত্যাদি। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তবে বন্যা-উত্তর পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য কেবল কৃষিক্ষেত্রে নয়, নজর দিতে হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের দিকেও। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্বল্প পরিমাণে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বন্যা আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর অধিবাসীকে সাহায্য করতে হবে। সাধারণত প্রামবাংলার নারীরা হস্তশিল্পে পারদর্শী। সরকারি উদ্যোগে আক্রান্ত এলাকার নারীদের একটি সমিতির আওতায় এনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এবারের বন্যায় খাদ্যশস্যের পাশাপাশি গবাদি পশু, পোলট্রি ও মত্স্য খামারিদের ক্ষতি হয়েছে অনেক বেশি। একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এ ব্যক্তিদের ঋণসহায়তা করতে হবে। সর্বোপরি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমান অবস্থায় স্বল্প পুঁজিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পাশে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পুনরায় সচল করার ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিস্থিতি সামলাতে সুদ মওকুফের পাশাপাশি নতুন করে ঋণ দেয়ার মাধ্যমে এসএমই শিল্পগুলোকে সহায়তা করতে হবে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করতে হবে নারী উদ্যোক্তাদেরও। ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য বাজারজাতের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারি পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। ব্যবস্থা নিতে হবে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের। বন্যা-উত্তর পুনর্বাসনে কেবল কৃষি খাতের দিকে নজর দেয়া নয়, সরকারি পর্যায় থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

  • [১]