- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বক্ষণিক মনোযোগ রাখতে হবে

টানা বৃষ্টিপাতে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অব্যাহত পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুরসহ হাওরাঞ্চলের জামালগঞ্জ ও সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার মতো খবর পাওয়া গিয়েছে। শুক্রবার বৃষ্টিপাত কিছু কম হওয়ার কারণে মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তিভাব আসলেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুসারে আজ পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন বন্যা মোকাবিলার লক্ষে সভা করে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগটিকে আটকানো সম্ভব নয় তাই এ থেকে রক্ষা পাওয়ার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। শুধু বন্যা নয় টানা বৃষ্টিপাতে মানুষের নানা ধরনের বিড়ম্বনা বাড়ে। বিশেষ করে যারা কায়িক শ্রম বিক্রি করে জীবিকা পরিচালনা করেন তাদের বিড়ম্বনা বেড়ে যায় এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে। ফলে বর্ষাকাল এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য যথেষ্ট পীড়াদায়ক হয়ে উঠে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারদের দুর্নীতির কারণে এবার অত্রাঞ্চলের প্রধান ফসল বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাস্তবিক ক্ষতিকে সরকারি হিসাবে না দেখানোর কারণে এবার ক্ষতিগ্রস্ত বোরো চাষীরা কোন পুনর্বাসনের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফসল হারানোর পর ভাটির পল্লী অঞ্চলে এই বন্যা বিরাট অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। যেখানে গ্রামের কৃষকরা খাদ্য সংস্থানেই হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে এখন তাদেরকে বন্যার ফলে ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার মতো আরেকটি বড় ক্ষতির সন্মুখীন হতে হচ্ছে। হাওরাঞ্চলের গ্রামগুলোর বাড়ি প্রবল ঢেউয়ে ভেঙে পড়ার খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে। ভাটির এইসব সাধারণ মানুষের কষ্ট-বিড়ম্বনাকে আমলে না নিলে আগামী মৌসুমের বোরো উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
বন্যাকে অনেকে প্রকৃতির আশীর্বাদরূপে বর্ণনা করেন। কারণ এর মাধ্যমে আমাদের ফসলি জমি পলিভরাট হয়ে আরও উর্বরা শক্তি অর্জন করে। প্রকৃতির এই আশীর্বাদকে গ্রহণ করতে হলে মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজমান রাখা অন্যতম পূর্বশর্ত। আর যে জমিতে ফসল ফলিয়ে উৎপাদনমূল্য উঠাতেই কৃষকের নাভিশ্বাস উঠে সেখানে এই আশীর্বাদকে তারা মাথা পেতে সাদরে গ্রহণ করবে এমনটি মনে করারও কোন অবকাশ নেই। আমাদের কৃষি ও কৃষক আজ এক বিপন্ন সময় অতিক্রম করছে। কৃষি ও কৃষকের বিপন্ন অবস্থা কাটানোর প্রধান উপায় হলো পরিকল্পিত হাওর ব্যবস্থাপনা যার আওতায় নদী খনন থেকে শুরু করে খাল কাটা, বাঁধ নির্মাণ, ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রাম রক্ষা, কৃষি গবেষণা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভূক্ত। এই পরিকল্পিত হাওর ব্যবস্থাপনা শুরু করতে পারলে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির যে আশঙ্কা সেটিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আমাদের যাবতীয় জলাধার গভীরতা হারিয়ে ফেলেছে যে কারণে অকালে এবং মৌসুমে বন্যা পরিস্থিতি সংকটাকার ধারণ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো সরকারিভাবে এমন সমন্বিত কোন পরিকল্পনার দৃশ্যমান উপস্থিতি নেই। কৃষিনির্ভর এই দেশটির মূল কাঠামোকে টিকিয়ে রাখতে হলে কৃষিসংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ ভিন্ন যাবতীয় উন্নয়ন একসময় মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য, এই ধ্রুবসত্যটি আমাদেরকে উপলব্ধি করতে হবে।
যাহোক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সেখানে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সার্বক্ষণিক মনোযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জনপ্রতিনিধিবৃন্দকে প্রতিনিয়ত নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে দ্রুত উপদ্রুত অঞ্চলে সহায়তা পৌঁছে দেয়ার জন্য সজাগ থাকার পরামর্শ আমাদের।    

  • [১]