লিপসন আহমদ
তাহিরপুর সীমান্তের কয়েকশ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বন্য হাতি নিয়ে উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছেন।
শনিবার রাতেও ৭ টি বন্য হাতি খাবারের সন্ধ্যানে ভারত সীমান্ত থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের যাদুকাটা নদীর পাড় দিয়ে লোকালয়ে নেমে আসে।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়,প্রতিটি হাতির পাল খাবারের সন্ধানে সীমান্তের বড়গোপ টিলা থেকে মাহারাম টিলা পর্যন্ত ২কিলোমিটার এলাকা চষে বেড়াচ্ছে। হাতির আগমনে আতঙ্কে ও বেয়কায়দায় পড়েছেন সীমান্ত এলাকার ৫ শতাধিক মানুষ। পাশাপাশি সীমান্তের বড়গোপ টিলা ও মাহারাম টিলা এলাকায় বনবাদালি ফসলি জমির ক্ষতি করছে হাতির দল।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ১৬ নভেম্বর রাতে একইভাবে ভারতে মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে দলবেঁধে তাহিরপুরের বড়গোপ টিলায় অবস্থান নিয়েছিল চারটি বন্য হাতি।
সেই সময় আমন ধান সহ মানুষের ফসল ও অন্যান্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে ও তিনজনকে আহত করে চলে যায়।
বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হলো- তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বড়গোপ টিলা, মাহারাম টিলা, আনন্দ পুর, গুচ্ছ গ্রাম, আর্দশ গ্রামের ৫ শতাধিক মানুষ। হাতির আক্রমণ থেকে বাচঁতে মাঝে মাঝেই রাতে মশাল জ্বালিয়ে বসতে হয় সীমান্তের লোকজনকে।
স্থানীয় বড়গোপ টিলার বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, হাতির দল গাছগাছালি ভাংচুর করে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। সীমান্তের বাসিন্দারা হাতির দলের অত্যাচারে অসহায়।
স্থানীয় বড়গোপ টিলার বাসিন্দা মো.সজিব হাসান বলেন, হাতির আক্রমণ থেকে বাচঁতে রাতে মশাল জ্বালিয়ে অবস্থান নেবার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বড়গোপ টিলার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বললেন, সীমান্তের বড়গোপ টিলা থেকে মাহারাম টিলা পর্যন্ত প্রায় ২কিলোমিটার এলাকার এ প্রান্ত ও প্রান্ত হাতিরা চষে বেড়াচ্ছে হাতির দল।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবীর বলেন, হাতির দলকে যাতে কেউ বিরক্ত না করে সেই জন্য মাইকিং করে স্থানীয়দের সর্তক করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা চয়ন চৌধুরী বললেন, হাতির দলকে বিরক্ত না করার জন্য মাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। সিলেট থেকে বন্যপ্রাণি বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল ওখানে গেছেন। পুলিশ বিজিবির সহায়তায় হাতির দলকে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে।
বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, রোববার রাতে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের বন্য হাতিগুলো বড়গোপ টিলা এলাকায় ঢুকে পড়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বন বিভাগকে অবগত করা হয়েছে। বিজিবির সীমান্তের লোকজনকে নিরাপদে থাকার জন্য অনুরোধ করছে ও হাতিগুলোকে সরিয়ে দিতে বন বিভাগের লোকজনকে সহযোগিতা করছে।