বিন্দু তালুকদার
ধর্মপাশা উপজেলার প্রান্তিক কৃষক পরিবারের ছেলে পবিত্র নূরের পর এবার অর্থাভাবে মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার শংকায় ভোগছেন একই উপজেলার বিলালপুর গ্রামের দরিদ্র বর্গাচাষী পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান (১৮)।
জাহিদ হাসান জয়শ্রী ইউপির বিলালপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও খোদেজা বেগমের সন্তান। ৫ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
জাহিদ হাসান এবারের এমবিবিএস পরীক্ষায়ী মেধা তালিকায় (ভর্তি রোল ১৭০২১৩) হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আগামী ২৮ অক্টোবর ভর্তির তারিখ। তবে আর্থিক সংকটের কারণে মেডিকেল কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে তার।
খোঁজ নিয়ে যায় যায়, জাহিদ হাসানের বাবা শফিকুল ইসলাম একজন বর্গা চাষী। প্রতি বছর অন্যের জমি বর্গা চাষ করে পরিবারের সকলের ভরন পোষণ ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগান। এবছরও তিনি ৪ একর (১২ কেদার) বোরো জমি বর্গা চাষ করেছিলেন। হাওর ডুবিতে তাঁর সকল স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে গেছে।
কৃষক শফিকুল ইসলামের এইচ.এস.সি পাশ তিন সন্তান আশরাফুজ্জামান, জাহিদ হাসান ও মনসুর আলম
তিনভাই একসাথে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ) ভর্তির জন্য আবেদন করেন। ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পরীক্ষায় পাশ করেন জাহিদ হাসান। তাঁর বড় ভাই আশরাফুজ্জামান ও ছোট ভাই মনসুর আলম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তাদের একমাত্র বোন শাপলা আক্তার ও ৪র্থ ভাই আলমগীর আলম জয়শ্রী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষার্থী ও সবার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম জয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষার্থী। কৃষি কাজ করেই সবার লেখাপড়ার খরচ বহন করছেন কৃষক শফিকুল ইসলাম।
জানা যায়, মেধাবী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান। পিএসসি, জেএসসিতে বৃত্তি পান। জয়শ্রী গ্রামের বিজ্ঞানী ড. জহিরুল আলম সিদ্দিকির বড় ভাই স্কুল শিক্ষক মাজহারুল আলম সিদ্দিকির সহায়তায় লজিং-এ থেকে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। সিলেট শহরে ছাত্র পড়িয়ে এমসি কলেজ থেকে এবছর এইচ.এস.সি পাশ করেন। মেধাবী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান অর্থকষ্টে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম না হলেও মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। জমি-বাড়িহীন বর্গা চাষী বাবার মোটা অংকের ঋণ ও অর্থ সংকটের কারণে জাহিদ হাসানের মেডিকেল ভর্তি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মেধাবী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের এলাকার সংসদ সদস্য রতন মহোদয় আমাকে ১০ হাজার টাকা সহযোগিতা করে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। আমি জানি না পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব কিনা।’
জয়শ্রী ইউপির ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্বপন মিয়া বলেন,‘ শফিকুল ইসলাম একজন হত দরিদ্র কৃষক। তার ছেলে-মেয়েরা খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে তার পরিবারকে সহায়তা করা হচ্ছে। শুনেছি তার এক ছেলে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তাকে সবার সহয়তা করা প্রয়োজন। ’
জয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাজহারুল আলম সিদ্দিকি বলেন,‘ জাহিদ হাসান একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তবে তার পরিবার খুবই দরিদ্র। কারো আর্থিক সহযোগিতা না পেলে তার মেডিকেলে পড়া সম্ভব হবে না। জাহিদ শুধু তার পরিবারের গর্ব নয়, সে আমাদের এলাকার গর্ব। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমাজের উচ্চ শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী লোকদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।’