সুখেন্দু সেন
বর্ণমালা তুমি, যুগ যুগান্তরের বেদনা হয়ে ঝরে পড়ো ক্রমাগত
কোনো এক নারীর আর্তনাদের মতো মিলিয়ে যাও রাতের নৈশব্দে।
বর্ণমালা তুমি, আকাশের স্লেটে সাজানো নক্ষত্র হয়ে জ্বলো,
আঁধার কেটে কেটে জোনাকির মতো সাঁতরে যাও দূর দিগন্তে।
বর্ণমালা তুমি চর্যাপদের গুছানো পদাবলী,
বহমান নদীর স্রোতে ভাসতে ভাসতে নোঙ্গর করো গাঙ্গেয় বদ্বীপের কোনো বন্দরে।
গড়ে তোলো বসতি মন মহাজনদের অন্তরে অন্তরে।
সাজাও ভালোবাসার নন্দন কানন, প্রেমের অমরাবতী, কতো রূপকথা, ঘুমপাড়ানি গান,
স্বপ্ন হয়ে নামো খোকার চোঁখে।
সে স্বপ্ন লুট হয়ে গেলে, পলাশের রং মেখে রঙিন হয়ে যাওয়া তুমি হয়ে ওঠো মুখরিত শ্লোগান।
কোনো এক বসন্তের দিনে তুমি রক্তগোলাপ হয়ে ঝরে পড়ো।
তোমার সকল শব্দ একত্রিত করে গর্জে ওঠো।
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের রক্ত প্লাবিত ভূমি শিহরিত হয় একযোগে।
তারপর ক্ষুব্ধ বর্ণমালা, ভালোবাসার গভীর আলিঙ্গনে মৃত্যুকে বেঁধে তুমি হয়ে যাও ঝাঁক ঝাঁক মেশিন গানের গুলি। অগ্নি স্ফূলিঙ্গ হয়ে ছুঠো দিগ্বিদিক আঁধারের বুক চিরে
ঝিলিকে ঝিলিকে লিখো মরণ জয়ের কাব্য।
বিজয়ী বর্ণমালা, তুমি এক অবিনশ্বর ইতিহাস
পাতায় পাতায় সুবর্ন রেখায় রেখে যাও জীবনের প্রবল উচ্ছাস।