- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বর্তমান ঐতিহাসিক স্থানেই শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হোক

ডা: মুরশেদ আলম
সুনামগঞ্জ শহরে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হবে এটা সুনামগঞ্জবাসী আপামর জনসাধারণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তবে তা কোথায় নির্মিত হবে সেনিয়ে সবার মাঝে বিশেষ এক আকাক্সক্ষা ও উদ্বেগ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন ও সুশীলসমাজসহ সুনামগঞ্জের আপামর মানুষের একান্ত প্রত্যাশা হলো, বর্তমানে শহীদ মিনারটি যে স্থানে আছে সেখানেই আরও কিছু জায়গা বাড়িয়ে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক। তবে কিছু কিছু ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা জনমত উপেক্ষা করে তাদের নিজস্ব পছন্দের স্থানে নির্মাণ করতেই বেশি আগ্রহী এবং তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাও সুনামগঞ্জবাসী ইতোমধ্যে প্রত্যক্ষ করেছেন। অনেকে আবার উনাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন যে, শহীদ মিনার হলো ভাষা আন্দোলনের শহীদ স্মৃতির মিনার। আর স্মৃতিসৌধ হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিসৌধ। তাই একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তো নির্মাণ হতে পারে। হ্যাঁ, কথাটি অত্যন্ত যুক্তিনির্ভর।
বর্তমান শহীদ মিনারটি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল মুক্তিযোদ্দাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য ১৯৭১ সনে নির্মাণ করা হয় এবং প্রথম বিজয় দিবসেই এই শহীদ মিনারে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী মা-বোনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।  প্রিয়জন স্মরণের সেই আবেগঘন পরিবেশে এই মহান স্বাধীনতার স্মৃতিসৌধটির নাম সরলভাবে প্রচলিত হয় শহীদ মিনার নামে। যা আজও শহীদ মিনার নামে চলমান আছে। জানামতে এটাই দেশের প্রথম শহীদ মিনার। তাই এই শহীদ মিনারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। যখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের প্রসঙ্গ উঠল তখন স্থান নির্ধারনের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় কর্তৃক পৌরসভার মেয়র মহোদয়কে আহ্বায়ক করে একটি স্থান নির্বাচন কমিটি করে দেওয়া হয়। স্থান নির্বাচন বিষয়ে কয়েকবার অধিকাংশ নাগরিক নেতৃবৃন্দ মেয়র মহোদয়কে বর্তমান শহীদ মিনারের স্থানেই জায়গার পরিমাণ বৃদ্ধি করে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার নির্মাণের যাবতীয় ব্যবস্থা  
গ্রহণের অনুরোধ করেন। এমন একটি সভায় মাননীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী জনাব এমএ মান্নান মহোদয় এবং বর্তমান পিএসসির চেয়ারম্যান জনাব ড. মোহাম্মদ সাদিক মহোদয়ও উপস্থিত ছিলেন। উনারা কথা দিয়েছিলেন যে, যেহেতু জায়গার মালিক বিচার বিভাগ তাই সরকারের মাধ্যমে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বিচার বিভাগের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় জায়গা বরাদ্দের অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। এছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইন ও সংসদ বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহায়তা গ্রহণের জন্যও সেদিনকার নাগরিক নেতৃবৃন্দ মাননীয় মেয়রকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আমরা নাগরিকবৃন্দ মনে করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ অথবা শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বিচার বিভাগের অব্যবহৃত পরিত্যক্ত জায়গা থেকে সরকার প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভূমি বরাদ্দ দিবে না এটা কখনো হতে পারে না। আমরা সুনামগঞ্জের আপামর জনগণ আরো মনে করি বিচার বিভাগের পরিত্যক্ত এবং অব্যবহৃত জায়গা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভূমি বরাদ্দ বা অনুমতি প্রাপ্তির বিষয়ে নাগরিক চাহিদা মোতাবেক আমাদের আস্থাশীল জনপ্রতিনিধি, সরকারি উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদগণ সম্মিলিত ও সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন কিংবা বর্তমান ঐতিহাসিক স্থানে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ বা শহীদ মিনার নির্মিত হোক আন্তরিকভাবে তা চান না। না হলে সুনামগঞ্জবাসীর আবেগ অনুভূতি উপেক্ষা করে স্থান নির্ধারণ না করেই জেলা পরিষদ ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের টেন্ডার কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারতেন না। নাগরিক সমাজ এরূপ কার্যক্রমকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন তা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
শহীদ মিনার শুধুমাত্র শহীদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্থানই নয়। বরং শহীদ মিনার হলো সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের উৎকৃষ্টতম প্লাটফরম। শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে বৃহত্তর সমাজের, বিভিন্ন সংগঠনের এবং বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সকল কার্যক্রম। তাই সার্বিক বিবেচনায় জনগণের ভাবনা, আকাক্সক্ষা-অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বর্তমান ঐতিহাসিক স্থানেই জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ সমন্বিত ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা এবং এটাই সুনামগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি। শহীদ মিনার আমাদের প্রেরণা আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ আমাদের স্বাধীনতার অহংকার। জয় হোক আমার ভাষা আন্দোলনের। জয় হোক আমার স্বাধীনতার অহংকারের।

  • [১]