- বর্ষায় অনুপস্থিত থাকে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী নিরাপত্তার অভাবে সন্তাদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না অভিভাবকর
- প্রাথমিক শেষে ঝরে পড়ছে ২০%-৩০% শিক্ষার্
- ছাত্রদের তুলনায় বেশি অনুপস্থিত থাকছে ছাত্রীরা
- দিরাই ও শাল্লার মাত্র ৪টি বিদ্যালয়ের আছে নিজস্ব কোন পরিবহন ব্যবস্থা
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহনের সুবিধার দাবি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের
জয়ন্ত কুমার সরকার, দিরাই
হাওর এলাকার জনসাধারণের সারাবছরই নানবিধ সমস্যা লেগে থাকে। কখনো অকাল বন্যায় ফসলডুবি, কখনো পাহাড়ি ঢলে বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় গোলার ধান, ঘরের আসবাবপত্র, এমনকি বসতবাড়িও। হাওরে আফালে নৌকাডুবিতে স্বজন হারানো কিংবা বজ্রপাতে নিহত হওয়ার খবর যেন হাওরপাড়ের নিত্যদিনের খবর। কোনরকম পেটের ক্ষুধা নিবারণ করলেও শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অবহেলা আর দৈন্যতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে যায় হাওরের অদম্য সাহসী ছেলেমেয়েরা। তবুও কোথাও যেন আটকে যেতে হয় তাদের। প্রাথমিক পর্যায় শেষ করে মাধ্যমিকেই ঘটে বিপত্তি। ভেঙ্গে যায় উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন। জেলার অতিদুর্গম উপজেলা হিসেবে পরিচতি দিরাই ও শাল্লা উপজেলা। বর্ষা মৌসুমের জন্য উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেই কোন নিজস্ব পরিবহন। ছোট ছোট ফেরী নৌকাগুলোই একমাত্রও ভরসা হলেও হাওরের ঝড়বৃষ্টি ও ঢেউ উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় না অনেকেই। বিরূপ আবহাওয়ায় অভিভাবকেরাও নিজ সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না। বর্ষায় বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতির হার অর্ধেকে নেমে আসে। ফলে আশানুরূপ ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের পরবর্তীতে নেয়া হয় না বাড়তি নজরদারিও। টানা স্কুলে যেতে না পেরে অনেকেই হতাশ হয়ে এক পর্যায়ে লেখাপড়া থেকে ছিটকে পড়ে। ফলে বাড়ছে ঝরে পড়ার হার। এজন্য অভিভাবকেরা দুষছেন যোগাযোগ ব্যবস্থাকে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বর্ষা মৌসুমের জন্য বিদ্যালয়ের নিজস্ব ট্রলার দাবি করছেন।
জানা যায়, হাওর অঞ্চলে যাত্রী পরিবহনের বড় নৌকাগুলো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করে। ফলে যাত্রীবাহী নৌকাগুলো থেকেও কোন সুবিধা নিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ছোট ছোট ফেরী নৌকাগুলোকে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের নিয়ম করে দিলেও অনেকেই মানছেন না সে নিয়ম। নিজেরা চাঁদা তুলে ৬ মাসের জন্য ট্রলার রিজার্ভ করে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গরীব পরিবারের শিক্ষার্থীরা অভাব অনটনে সে সুবিধা নিতে সমর্থ হয় না।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে ট্রলার ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান শিক্ষকেরা বলছেন, পরীক্ষার সময় আসলেই কেবল শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার হার বাড়ে। বছরের লম্বা একটা সময় পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় আশনুরূপ ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে উচ্চ শিক্ষা নিতে অনেকেই আগ্রহ হারাচ্ছে। নিকট ভবিষ্যতে অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না জেনে থেমে যাচ্ছে অঙ্কুরেই।
ভাটির জনপদগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী শেষ করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হচ্ছে না ২০%-৩০% শিক্ষার্থী। দিরাই উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী করেছে ৪ হাজার ৬২২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৬১৮ জন শিক্ষার্থী। ২০২০ সালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩৩৯ জন। যারা ২০২২ সালে ১০ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। দিরাই উপজেলা মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা, গেছে চলতি বছর ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮১৪ তে।
দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের ২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে রফিনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে। এদের একজনও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় না। আলীপুর গ্রামের ছাত্র অভিভাবক বিনয় হাজরা বলেন, গ্রাম থেকে স্কুলের দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোন ট্রলার নেই। যাত্রী পরিবহন করে এমন দুটি ট্রলার ভোরে গ্রাম থেকে ছেড়ে জামালগঞ্জ ও দিরাই যায়। ট্রলারগুলো ফিরে আসে সন্ধ্যায়। এরমধ্যে আর কোন যোগাযোগের মাধ্যম নেই। ভোরে ৭ম শ্রেণি পড়–য়া সন্তানকে কিভাবে স্কুলে দেই ?
একই গ্রামের ইমন ও লিমন ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে রফিনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে তাদের পিতা দেবেশ সরকারও যোগাযোগ সমস্যাকেই দুষলেন। তিনি বললেন, এমন সকালে বাচ্চাগুলোকে স্কুলে পাঠালে তারা সারাদিন না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে গেলে ফিরে এসে তাদের মাথা ব্যাথাসহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।
অন্যদিকে উপজেলার ধনপুর চন্ডিপুর গ্রামের আলোর দিশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরমঙ্গল এর শিক্ষার্থী জাবের মিয়া ও তমা আক্তার বললেন, আমাদের গ্রাম থেকে সকলে মিলে আমরা একটি নৌকা সারা বর্ষার জন্য রিজার্ভ করেছি। মাসিক চাঁদা দিয়ে ফান্ড সংগ্রহ করি। আমাদের মধ্যে অনেকেই মাসিক চাঁদা দিতে পারে না। একসময় বিদ্যালয়ে আর নিয়মিত যেতেও পারে না।
জেলার দিরাই উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৯ টি। অন্যদিকে শাল্লা উপজেলায় রয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠান। যার অধিকাংশই দুর্গম হাওরাঞ্চলে অবস্থিত। এরমধ্যে দিরাই উপজেলার জগদল আল-ফারুক উচ্চ বিদ্যালয়, তাড়ল উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয় ও শাল্লা উপজেলার আব্দুল মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া কোন বিদ্যালয়েই নিজস্ব কোন পরিবহন ব্যবস্থা নেই।
রফিনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস,বি গোলাম মোস্তফা বলেন, পুরো ইউনিয়নের একটি মাত্র উচ্চ বিদ্যালয়। শুকনো মৌসুমেও পরীক্ষার সময়ে কেবল ছাত্রছাত্রী উপস্থিত থাকে। অতি দুর্গম এলাকা হওয়ায় ছোট নৌকা করে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। অভিভাবকেরাও নিরাপত্তার অভাবে সন্তাদের পাঠাতে চান না। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরাই বেশি অনুপস্থিত থাকছে।
অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে ইঞ্জিন চালিত নৌকার ব্যবস্থা করলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা সরবরাহের জন্য একাধিকবার চেষ্ঠা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয় নি।
জগদল আল-ফারুক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, বিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ড থেকে একটি ট্রলার ক্রয় করা হয়েছে। একটি ট্রলারের লেবার খরচ ও ডিজেল খরচ চালাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।
ব্যক্তি উদ্যোগে দুটি ট্রলার পেয়েছে দিরাই উপজেলার আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক জানালেন, দুটি ট্রলার থাকাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময় মতো উপস্থিত হতে পারছে। অভিভাবকেরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে নিরাপদ বোধ করছেন।
এ প্রসেঙ্গ দিরাই সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মিহির কান্তি দাস বলেন, হাওর অঞ্চল চিরায়িত কাল ধরেই চরম অবহেলার শিকার হয়ে আসছে। আমাদের নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। দারিদ্রতার থাবা আমাদের সারাবছর গ্রাস করে রাখে।
শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য সরকারের উপবৃত্তি, বিনামূল্যে বই প্রদানসহ নানান প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে যোগাযোগের জন্য নিজস্ব ট্রলারের ব্যবস্থা করাটা অনেক আগেই দরকার ছিল। নয়তো হাওরের শিক্ষার্থীদের প্রপারওয়েতে আনা যাবে না। তিনি বললেন, সবকিছু যে সরকার করবে তা নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।
এ প্রসঙ্গে শাল্লা উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজার কালী পদ দাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে মূলত কোন বিদ্যালয়েই ৫০% বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত হয় না। যারা উপস্থিত হয় তারাও ফুল টাইম স্কুলে থাকে না। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার জন্য ট্রলারের ব্যবস্থা থাকলে উপস্থিতি বাড়ানো যেত।
দিরাই উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন বলেন, হাওরের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়েই নিজস্ব পরিবহন থাকা জরুরী। আগের তুলনায় হাওরের বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতির হার বাড়লেও বর্ষা মৌসুমে কমে যায়। সারাদেশের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিদ্যালয়ে পাঠগ্রহণের কোন বিকল্প নেই।
এ প্রসঙ্গে শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছি বিদ্যালয়গুলোতে ট্রলার সরবরাহ করার। ৫ টি ট্রলার দিয়েছি। এরমধ্যে আমার নিজ গ্রামের বিদ্যালয়ের দুটি ট্রলার ছাড়া সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও খরচপাতির অভাবে বাকিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। হাওরের স্কুলগুলোতে বর্ষা মৌসুমে ট্রলারের ব্যবস্থা করা ও এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ তদারকি করা এখন সময়ের দাবি। উপজেলা সদর কেন্দ্রিক বিদ্যালয়গুলোতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি ট্রলার মালিককে মৌখিক আদেশ দেয়া রয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অতিদুর্গম এলাকা চিহ্নিত করে বিদ্যালয়গুলোতে ট্রলারের ব্যবস্থা করতে ২০১৯ সালে জেলা প্রসাশক মহোদয়ের কার্যালয়ে জেলার সকল নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিদ্যালয়গুলোকে ট্রলার সরবরাহ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এমনকি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুর করার প্রস্তাব করা হয়। কোন কোন বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুও করা হয়। করোনাকালীন বিপর্যয়ে এ পরিকল্পনা আর সফলতার মুখ দেখেনি। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যাতে করে অতিদুর্গম প্রতিষ্ঠানগুলোতে ট্রলার প্রদান করা যায় এবং মিড-ডে মিল চালু করা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল দিরাই-শাল্লায় নয়, জেলার তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার কিছু হার এলাকায় বর্ষা মৌসুমে এমন পরিবেশই থাকে। তাহিরপুরের দীজেন্দ্র কুমার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হাওরের একেবারে তলানিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রয়াত দীনেশ চন্দ্র তালুকদার। এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি দীপক তালুকদার বললেন, আমার বাবা যেখানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, ওখানকার মেয়ে শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয় হবার আগে প্রাথমিক শিক্ষার পর ঝরে পড়তো। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা নিজেদের তত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের নৌযানে আনার চেষ্টা করছি। কিন্তু সবকিছু পরিচালনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। গত বছর জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক একটি ট্রলার দিয়েছিলেন। কিছুদিন এই ট্রলারে শিক্ষার্থীরা আসা যাওয়া করেছে। গেল বন্যায় ট্রলারটি ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। দুটি ভালো ট্রলার শিক্ষার্থীদের দেওয়া হলে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের উপকার হতো।