রাজু বিশ্বাস
সৌন্দর্যহীন এই বসত ঘরটি আমার
যেখানে কেটেছে অগোচরে তন্দ্রাহারা নিঝুম রাত্রি
সাদামাঠা আভরণে সম্ভ্রম ঢাকা পূর্ণ যৌবনার।
একরাশ মায়া তার কোণে কোণে
রন্ধ্রে রন্ধ্রে আছে অক্ষমতার নির্বাক ধর্মঘট
আছে অনাহারী কত সাঁঝ সে-কথা কেউ জানে না!
বহুবার দিয়েছি জোড়াতালি
মানত না বাধা নীল আকাশের বিলাসী জ্যোৎস্না
বলত, আমার প্রবেশের পথ রেখো একফালি।
বৃষ্টির ফোঁটাগুলো অসীম উদার
সেও যেন যেতে রাজি নয় অন্য কোথাও
সঙ্গী হতো জড়োসড়ো বসে রাত কাটাবার।
রক্ষা হয়তো পেতাম এ যাত্রাতে
বেড়ায় সাপটানো প্রিয় ছবিটি ভিজে ছিঁড়ে গেলে
চোখ দুটো তখন ভরে উঠতো কান্নাতে!
কত করেছি অনুরোধ অনুনয়
নিজ হাতে বাঁধা খড়ের ছাউনিটা ভীষণ বৈমুখ
শক্ত করে বেঁধেছি বাঁধন তবু হলো না সদয়।
অবকাঠামোয় ঘুনে ধরা বেঁশো খুঁটি খানি
নিতে চায় না পচে গলে ভেঙে পড়া চালের দায়
যেন জীবন সংগ্রামে পরিশ্রান্ত দুর্বল বৃদ্ধ রমণী।
ঝড়ের সাথে নিখাদ মাখামাখি তার
চাঁদ বা বৃষ্টির সখ্যতার চেয়েও অনেক বেশি
সর্বগ্রাসিতে যার নিতান্তই জুড়ি মেলা ভার।
বন্যার জলে আমায় সিক্ত করে
আইলা, আম্ফান, সিডরের দুরন্ত প্রেমবানে
উড়ে গেল চালগুলো সর্বনাশীর সবল হাতটি ধরে!!
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী