- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বহুদলীয় অংশগ্রহণমূলক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

জেলার দ্বিতীয় ধাপে সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে রবিবার শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা নিয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ ছিলো না। গ্রহণযোগ্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে ১৭ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ যথাসংখ্যক সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে তাঁদের নির্বাচিত করেছেন নির্ধারিত মেয়াদে তাঁরা সেই প্রত্যাশা পূরণে উপযুক্ত ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি। একই সাথে দুই উপজেলার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানাই উপযুক্ত শান্তি বিধানের জন্য।
সদ্যসমাপ্ত এই ১৭ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির বিষয়টি নির্বাচনের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা মাত্র ২টি ইউনিয়নে পাস করেছেন। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের এমন পরাজয় খুব অপ্রত্যাশিত ছিলো কি? মূলত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই দলের ভিতর প্রার্থীতা নিয়ে যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নানামুখী তৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছিল তাতে ফলাফলের এমন বিপর্যয় অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিলো। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলের ভিতর বিরাজমান অন্তর্দ্বন্দ্ব, কোন্দল, গ্রুপিং ইত্যাদি প্রকাশ্যে চলে আসে। দলের মনোনয়নের বাইরে একাধিক প্রার্থী বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে মূল প্রার্থীকে লড়তে হয়েছে একাধিক দলীয় বিদ্রোহীর সাথে। ফলে নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে ভোটার পর্যন্ত ছিলো বিভাজনের তীব্রতা। আওয়ামী লীগের এই পরাজয়ের পিছনে যতোটা না অন্য দলীয়-স্বতন্ত্র প্রার্থীর চাপ তৈরি হয়েছিলো তার চাইতে অনেক বেশি চাপ তৈরি হয় নিজেদের ভিতর থেকেই। শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীরা এই চাপ সামলাতে পারেননি। আওয়ামী লীগকে এই নির্বাচনী ফলাফল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে সামনের দিনগুলোতে এমন পরিস্থিতি সামলানোর।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে গেলেও শেষ পর্যন্ত জিতে গেছে নির্বাচনী ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকে যেরকম কঠিন সমালোচনা করা হচ্ছিল, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন পরিস্থিতি অন্যরকম হতে বাধ্য। ভোটারদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ভোটার উপস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ, নিরপেক্ষতা; সবকিছু মিলিয়ে ১৯ ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে কোনভাবেই নেতিবাচক বিশ্লেষণ করার সুযোগ নেই। মূলত এই জায়গায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন জিতে গেছে। দলীয় বিজয়ের চাইতেও এই বিজয় অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ও অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় কাঠামোর উপর দাঁড় করাতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে না। কিন্তু নির্দলীয়ভাবে দলের প্রার্থীরা ঠিকই নির্বাচন করেছেন। দুই উপজেলা মিলিয়ে বিএনপির অন্তত ৫ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। সদর উপজেলায় জাতীয় পার্টির ৩ প্রার্থী ও জমিয়তের আরও ১ প্রার্থী জিতে এসেছেন। কৌশলে বিএনপিসহ নির্বাচনমুখী অন্য দলগুলোকে অংশগ্রহণ করানোর বিষয়েও ক্ষমতাসীন দল কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল বহুদলীয় অংশগ্রহণের বিষয়টিকে নিশ্চিত করে।
একটি বড় সংখ্যক আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এঁদের নির্বাচিত হওয়া থেকে প্রমাণিত হয় দলটি সবচাইতে জনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কেন এই ব্যর্থতা এর নির্মোহ জবাব খোঁজায় সময় এখন। এই ব্যর্থতার কার্যকারণ অনুসন্ধান করে সামনের দিনে প্রার্থী নির্বাচনে আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিলে ক্ষতি হবে দলটিরই।
নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এখন জনগণের আস্থা মিটানোর পালা। এই জায়গায় তাঁরা কেমন সফলতা দেখান তাই দেখার সময় এখন।

  • [১]