- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বহুল আলোচিত গ্রাম মুনিরজ্ঞাতি

বিজয় রায়, ছাতক
বর্তমান সময়ে সিলেট বিভাগের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত জনপদ ছাতকের মুনিরজ্ঞাতি গ্রাম। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে দু’টি পৃথক আলোচিত ঘটনায় মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের নাম এখন মানুষের মুখে-মুখে সর্বত্র। প্রতিদিন কোনা না কোনভাবে মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের নাম গণমাধ্যমের পাতায় স্থান পাচ্ছে।
প্রকাশ্যে দিবালোকে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টাকারী কুখ্যাত নরপশু বদরুল আলমের বাড়ি মুনিরজ্ঞাতি গ্রামে। গত ৩ অক্টোবর সোমবার বিএ (পাস) পরীক্ষা দিতে আসা সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস (২৩)কে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র, ছাত্রলীগ নেতা ও ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের সৈয়দুল ইসলামের পুত্র বদরুল আলম।   
এ ঘটনায় দেশজুরে ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সর্বস্তরের মানুষ। প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে গোটা সিলেট শহর। প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-আমলা ও এমপিরা নড়েচড়ে বসেন এ ঘটনায়। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বস্থ করা হয় দৃষ্টান্তমুলক সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের বিষয়ে। দলবল বিবেচনায় না এনে বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘটনার পরদিন থেকে বদরুল আলমের বাড়ি মুনিরজ্ঞাতি গ্রামে মিডিয়া কর্মীদের আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয়।
এদিকে গত ৮ অক্টোবর গাজীপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত ৭ জঙ্গির মধ্যে সাইফুর রহমান বাবলুর বাড়ি আলোচিত মুনিরজ্ঞাতি গ্রামে। একই সাথে নিখোঁজ হওয়া সাইফুর রহমান বাবলুর বাল্য বন্ধূ আব্দুস ছালামের পুত্র আব্দুল বাছিতের বাড়িও একই গ্রামে। মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের বদরুল কর্তৃক সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিকে কুপিয়ে আহত করার মাত্র ৫ দিনের মাথায় একই গ্রামের জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলু গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত হওয়ায় অখ্যাত মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের নাম আবারো গণমাধ্যমের শিরোনামে পরিণত হয়। মিডিয়াকর্মী ও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যদের আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয় আলোচিত মনিরগাতি গ্রামে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতে নিহত ৭ জঙ্গির মধ্যে ৩ জনেরই বাড়ি ছাতকে। কিন্তু  মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের নিহত জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলু ছাড়া আর কাউকে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। পরিচয় না পাওয়া নিহত অপর দুই জঙ্গি একই গ্রামে বাবলুর সহযোগি কি না- এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে। গত বুধবার বিকেলে বাবলুর পিতা মতিউর রহমান ওরফে ময়না শাহকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। জঙ্গির তথ্য জানতে পুলিশ তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে বৃহস্পতিবার অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ময়না শাহকে নিয়ে যাওয়া হয় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। ৩ দিন ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হলেও ময়না শাহর কাছ থেকে পরিচয় না পাওয়া নিহত অপর দুই জঙ্গি সম্পর্কে কোন তথ্য পুলিশ সংগ্রহ করতে পেরেছে কি না তা জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির জানান, মুনিরজ্ঞাতি গ্রাম নিয়ে তিনিসহ এলাকার মানুষ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পুলিশি নজরদারী বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
মুনিরজ্ঞাতি গ্রাম সম্পর্কে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে জঙ্গি ও জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতার কথা স্থানীয় লোকদের মুখে শুনেছি। বিশেষ করে মুনিরজ্ঞাতি গ্রামে রয়েছে জামাত-শিবিরের অঘোষিত আস্তানা। বিগত উপজেলা নির্বাচনে মুনিরজ্ঞাতি সেন্টারে জামাতের প্রার্থী বিপুল ভোট পেয়েছিল। এছাড়া কালারুকা ও ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের গোপন বৈঠক, জঙ্গি তৎপরতা ও সরকার বিরোধী কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

  • [১]