স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব কে প্রধান আসামি করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এই মামলা দায়ের করেন হাওর বাঁচাও আন্দোলের সদস্য মো. শওকত আলী। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ (প্রথম আদালত) মহিউদ্দিন মুরাদ (ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ) মামলাটি কেবল গ্রহণ করেছেন। কোন প্রকার আদেশ দেন নি। মামলা নম্বর ৪/২০২৩। নিয়মিত আদালত যোগদান সাপেক্ষে আগামী ২৭ এপ্রিল এই মামলার আদেশের দিন ধার্য্য করা হয়েছে।
মামলায় শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব, উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ূম, হাবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলা গ্রামের বাসিন্দা শান্ত কুমার দাশ, উপজেলার দামপুর গ্রামের বাসিন্দা বকুল আহমেদ এবং আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব রায়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে শাল্লা উপজেলাধীন ভান্ডাবিল হাওরের উপ-প্রকল্পের আওতায় নতুন বৈশাখালী ভাঙ্গা পর্যন্ত ১৪৬ মিটার ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণও মেরামতের জন্য ২৭ নম্বর পিআইসি তৈরি করা হয়। সেখানে ২৪ লক্ষ ৭৩ হাজার ১০১ টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ এর নিয়ম অনুযায়ী বাঁধের পাশে জমি যার, সেই পাবে পিআইসি। সেই নিয়ম না মেনে শাল্লার হাবিবপুর ইউনিয়নের নারকিলা গ্রামের শান্ত কুমার দাশ, উপজেলার দামপুর গ্রামের বকুল আহমেদ এবং আনন্দপুর গ্রামের বিপ্লব রায় কে পিআইসির সভাপতি, সদস্য সচিব ও সদস্য করা হয়।
তাদের পিআইসি দিতে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সদস্য মো. শওকত আলী বললেন, শাল্লার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে শান্ত, বকুল ও বিপ্লব কে পিআইসি দিয়েছেন। অথচ তাদের বাঁধের পাশে কোন জমি নেই, তারা নীতিমালা অমান্য করে পিআইসি দিয়েছেন। সরকারের টাকা নিয়ে এভাবে নয়ছয় করার এখতিয়ার কারো নেই। তাই আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি, আশাকরি ন্যায় বিচার পাব।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার নাগ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি গ্রহণযোগ্যতা শুনানীর জন্য রাখা হয়েছে।
আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল জানালেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে কোন প্রকার আদেশ প্রদান করেন নি। নিয়মিত আদালত যোগদান সাপেক্ষে আগামী ২৭ এপ্রিল আদেশের দিন ধার্য্য করা হয়েছে।