শাল্লা উপজেলার ৫৭, ৫৮, ৬০ ও ৬৬ নং পিআইসির আওতায় ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। অন্য যেসব বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে তার অনেকগুলোতেই সঠিকভাবে কমপেকশন করা হয়নি। এজন্য জেলা প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাল্লা উপজেলায় অনুষ্ঠিত বাঁধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায়। বৃহস্পতিবার দিনভর তাঁর নেতৃত্বে কয়েকটি দল শাল্লার বিভিন্ন হাওরে চলমান ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এই মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। বিভিন্ন আলামত থেকে স্পষ্ট যে, এবার পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের গণমুখী সিদ্ধান্তটিকে যেন কেউ চরমভাবে বিতর্কের মধ্যে ঠেলে দিতে চাইছে। কয়েকদিন আগে জেলা শহরে সংবাদ সম্মেলন করে জামালগঞ্জ উপজেলার বাঁধের কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের জন্য টাকা গ্রহণের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অবশ্য পরদিন কয়েকটি পিআইসি এ নিয়ে পালটা সংবাদ সম্মেলন করে আগের দিনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এবার গত বছরের চাইতে বেশি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারি অর্থ লুটপাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলো জেলা পর্যায়ের কমিটি প্রধানরাও আংশিক স্বীকার করেছেন। এসব কিসের আলামত? একটি গণমুখী পদ্ধতিকে আতুড়ঘরে মেরে ফেলতেই কি এমন আত্মঘাতী তৎপরতা? সময়ই এর উত্তর দিবে। কিন্তু এতে করে যে জেলার কৃষি ও কৃষক সমাজ আবারও চরম ঝুঁকির মধ্যে পতিত হবেন সে নিয়ে কারও সন্দেহ নেই।
বাঁধ নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে উপজেলা পর্যায়ে একটি কমিটি আছে। ওই কমিটির কাজই হল, প্রতিটি বাঁধে সরেজমিন উপস্থিত হয়ে কাজের মান, গতি যাচাই করা। যেখানে ব্যত্যয় লক্ষ করবেন সেখানে তাৎক্ষণিক উপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন। এই তদারকি ব্যবস্থাটি সঠিকভাবে কার্যকরী থাকলে জেলা প্রশাসককে ছুটে গিয়ে বাঁধের কাজের অনিয়ম বের করতে হত না। তদারকি ব্যবস্থার এই দুর্বলতার পিছনে আর কোনো কারণ রয়েছে কিনা তাও ভেবে দেখার বিষয়। অনেক উপজেলায় পিআইসি গঠনে এ বছর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন তখন স্থানীয় প্রশাসন মূলত অসহায় হয়ে পড়েন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব ছিল, বাঁধের কাজের শতভাগ মান বজায় রাখতে প্রশাসন ও পিআইসিগুলোকে চাপে রাখা। কোনো কোনো জায়গায় যদি ঘটনা এর উল্টো হয় ত্হালে শত মনিটরিং ব্যবস্থার মধ্য দিয়েও এই অনিয়ম দূর করা সম্ভব হবে না।
জেলা প্রশাসক বাঁধের কাজে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সঠিকভাবে বাঁধের কাজ শেষ করে হাওরের বোরো ফসলকে অন্তত আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা। ব্যক্তিবিশেষের শাস্তি হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যদি ফসল হানি হয় তাহলে ফসল হারা কৃষকরা তাতে বিন্দুমাত্র স্বস্তি খোঁজে পাবেন না। গাফিলতি দেখানো পিআইসিগুলোকে কোনো সময় ক্ষেপণ না করে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে যাতে অন্যরা সময় থাকতে সাবধান হয়ে পড়েন। গত দুই বছর জেলায় আগাম বন্যা হয়নি। তাই পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ পদ্ধতিটিকে শক্ত পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। এবার প্রকৃতি কী আচরণ করবে তা আগাম বলা যাচ্ছে না। তবে সব ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হয়। ফসলরক্ষা বাঁধের নামে শত কোটি টাকা বরাদ্দ ওই প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতেই। যদি কোনো কারণে প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করে আর অনিয়মের কারণে দুর্বল বাঁধ বালির বাঁধের মত ভেঙে যায় তাহলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারে, আমরা সংশ্লিষ্টদের শুধু সেই আশঙ্কার কথাটিই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।