- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বাঁধের কাজে জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে ‘কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ জেলা কমিটির সভায় সকল হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে জবাব দিহীতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদ্বৃতি দিয়ে জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পাউবো কমকর্তা ও পিআইসি’র (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) দায়িত্বশীলদের এই নির্দেশনা দেন।
রবিবার দুপুর ১ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জেলা কমিটির সদস্যবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, পাউবো’র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল ইসলাম বলেন, শনিবার তাহিরপুরের আঙ্গুরালি হাওর রক্ষা বাঁধে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁধের কাজে নানা অনিয়ম হচ্ছে। মাটি দেওয়া হচ্ছে কমপেকসন ছাড়া, কমপেকসন না করেই ঘাস লাগানো হয়ে গেছে, বাঁধের পাশে স্কীমের সাইনবোর্ড নেই। রেজিস্টার রাখার কথা সেটিও নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে শনি, হালি, গুরমা ও মাটিয়ান হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে কাজ শুরু য় নি। বলা হয়েছে কিছু অংশে পানির জন্য বাঁধের শুরু করা যায়নি। এখন আর বাঁধের কাজে বিলম্ব করার সুযোগ নেই। কাবিটা নীতিমালা মোতাবেক সকল বাঁধের কাজ শুরু ও শেষ করতে হবে।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক, কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির অভিযোগ নিস্পত্তিকারী কর্মকর্তা মো এমরান হোসেন জানালেন, ২০১৭ সালের অকাল বন্যায় যেখানে পানি ঢুকেনি, ফসলের ক্ষতি হয়নি। এমন স্থানে বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না। তিনি দিরাই উপজেলায় পাকা সড়কের সামনেই (১৭ নম্বর পিআইসি) আরেকটি বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে, ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ এই পিআইসিতে। এই নিয়ে অভিযোগ হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হয়ে থাকলে উপজেলা যাচাই কমিটি জেলা কমিটির কাছে দ্রুত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার চলতি নদীর বাম–ডান তীর এবং দোয়ারাবাজারের লক্ষীপুর ইউনিয়নের বাম- ডান তীরের বাঁধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোর বিষয়ে দ্রুতই কারিগড়ি কমিটির প্রতিবেদন দেওয়া প্রয়োজন।
এই কর্মকর্তা বলেন, বাঁধের পাশে পানি রয়েছে, মাটি পাওয়া যাচ্ছে না, এসব অজুহাত দেখানো যাবে না। ৩০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার দূর থেকে মাটি আনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া আছে। সুতরাং কাজে বিলম্ব করার সুযোগ নেই কোন পিআইসির।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী ১ সাবিবুর রহমান উপজেলা প্রকল্প যাচাই বা কারিগড়ি কমিটিকে দ্রুত স্ব স্ব উপজেলার প্রতিবেদন জেলা কমিটির কাছে জমা দেবার অনুরোধ জানান।
নির্বাহী প্রকৌশলী-২ সফিকুল ইসলাম জানালেন, বাঁধে সরেজমিনে গিয়ে দেখে তারা মনে করছেন অনেক পিআইসি’র সদস্যরা মাটির স্তরে স্তরে যেভাবে কমপেকসন করার কথা, সেভাবে করছেন না। বাঁধের গোড়া থেকেও মাটি কাটা হচ্ছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কার্যকরি সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, কমপেকসন না করলে বাঁধ নির্মাণেরই প্রয়োজন নেই।
মুক্তিযোদ্ধা আইনজীবী আলী আমজদ বলেন, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। বাঁধের কোন কাজেই গাফিলতি করা যাবে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম বলেন, হাওর রক্ষা বাঁধে বিগত সময়ে অনিয়মের দায়ে দুদকের মামলার আসামী বা তাদের ছেলে-সন্তান যেন পিআইসি’র দায়িত্ব না পায়, এটি খেয়াল রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
উপস্থিত বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ সংশ্লিষ্টদের হয়রানির জন্য অভিযোগ দায়ের না করে, ন্যায় সঙ্গত বা হাওরের ফসল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অভিযোগ বা পরামর্শ দেবার অনুরোধ জানান।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন- সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার প্রমুখ।

  • [১]