নতুন নীতিমালার আওতায় বাঁধ নির্মাণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবো-জেলা-উপজেলা প্রশাসন প্রাথমিক ধাপে সফলতা অর্জন করেছেন, এমন কথা বলার জো নেই। কারণ তারা যেমন ১৫ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন শেষ করতে পারেন নি তেমনি ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজও শুরু করতে পারেন নি। ১৫ ডিসেম্বর পেরিয়ে আরও ১৭ দিন গত হলেও কবে বাঁধের কাজ শুরু করা যাবে, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাঁধ নির্মাণ/সংস্কারের জন্য ১০৩৮ টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাউবো, সদর কার্যালয়ে পাঠানো হলেও এখনও ওগুলো অনুমোদিত হয়ে আসে নি। এদিকে পাউবোর বক্তব্য হচ্ছে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর সদর দপ্তরের অনুমোদনের কোন প্রয়োজন নেই। জেলা/উপজেলা কমিটিই প্রকল্পগুলো অনুমোদন করবে। কে অনুমোদন দিবে, আদৌ এরূপ অনুমোদনের প্রয়োজন আছে কিনা, সেখানে রহস্য হয়ে মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া না পাওয়া নিয়ে দোলাচল। জেলার ১১ উপজেলায় বাঁধ নির্মাণ/সংস্কারের জন্য অনুন্নয়ন খাতের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে ২৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অথচ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে ৭২ কোটি ৩৪ লাখ ৬ হাজার টাকার। অর্থাৎ প্রাপ্ত বরাদ্দের চাইতে প্রাক্কলিত প্রকল্প ব্যয় ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বেশি। অতিরিক্ত চাহিদার পরিমাণ প্রাপ্ত বরাদ্দের চাইতে আরও প্রায় দেড় গুণ বেশি। এই বর্ধিত বরাদ্দ পাওয়া যাবে কিনা সেই সন্দেহ থেকে বাঁধের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে ধারণা দেয়া হয়েছে। গত বছর হাওরের বাঁধ নির্মাণ/সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৬৮ কোটি টাকা। এবার সরকার উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাত মিলিয়ে বরাদ্দ ছাড় করেছেন ৬০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ গতবারের চাইতে প্রায় ৮ কোটি টাকা কম ছাড় করা হয়েছে। গতবার ভয়াবহ ফসল বিপর্যয়ের পর সংগত কারণেই এবার বাঁধ নির্মাণে বেশি বরাদ্দের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বেশি দূরে থাকুক সমপরিমাণ টাকাও ছাড় না করার কারণ কি? আমরা এই প্রশ্নটি রাখছি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট। অন্যদিকে যখন প্রাপ্ত বরাদ্দের চাইতে বেশি প্রকল্প প্রণীত হল তখন এর একটি অগ্রাধিকার ক্রম নির্ধারণ করা উচিৎ ছিল। অতিরিক্ত চাহিদাকৃত অর্থ ছাড় পেলে নীচের দিকের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য। তাহলে অন্তত টাকা পাওয়া যাবে কিনা এই আশঙ্কা থেকে কাজ শুরু করা আটতে থাকত না। অগ্রাধিকার তালিকার উপরের দিকের কাজগুলো সময়মত শুরু করা যেত।
যাহোক অর্থ ছাড়, পিআইসি গঠন, প্রকল্প অনুমোদন এমনসব আমলাতান্ত্রিক বিষয়াদির চাইতে জেলাবাসী বেশি আগ্রহী বাঁধের কাজ শুরু করা নিয়ে। নতুবা বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে এমন লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি হবে যেটি নিয়ন্ত্রণ করা জেলা/উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বেশ কঠিন হবে। আমরা কেউই চাই না নতুন নীতিমালার আওতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হোন। আমরা বরং তাঁদের সর্বতো সফলতা কামনা করি। এটি এমন এক বিষয় যার সাথে জেলার ২৫ লাখ লোকের জীবন ও জীবিকা জড়িত। গতবছর সর্বস্ব হারিয়ে জেলার কৃষকরা এবার কষ্ট করে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের কষ্টে ফলানো ফসল যাতে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেড়ে নিতে না পারে সেজন্য মানবিক উদ্যোগগুলো সর্বাংশে যথোপযুক্ত হওয়া উচিৎ।