- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বাঁধের কাজ সময়মত শুরু না হবার শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
বাঁধের সার্ভে ও প্রাক্কলন তৈরির কাজে বিলম্ব হওয়ায় এবার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ বিলম্বে শুর হবার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কৃষকরা মনে করেন, যেসব বাঁধে বা ক্লোজারের আশপাশ থেকে পানি নেমেছে, সেসব বাঁধে ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শুরু করতে হবে। না হয় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হবে না। ফসল মৌসুমে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে হাওর। কৃষকরা মনে করেন, সার্ভের কাজ শেষ করে প্রয়োজনে দূরে থেকে মাটি এনে কোন কোন ক্লোজারের কাজ শুরু করা যেতে পাারে।
সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য গেল বছর প্রায় ৬৩৩ কিলোমিটার বাঁধ এবং বড় ১৩৫ ভাঙনে ক্লোজার নির্মাণের কাজ করে ৭৪৫ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)। গেল বছরও ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও জানুয়ারি‘র শেষ সপ্তাহেও কোন কোন বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও মার্চ মাসেও বাঁধের কাজ করতে দেখা গেছে। বিলম্বে কাজ করলে দুর্বল বাঁধ অকাল বন্যায় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশ^ম্ভরপুরের কৃষক নেতা স্বপন কুমার বর্মণ বললেন, করচার হাওরপাড়ের বিশ^ম্ভরপুর বাজার থেকে ঘাগটিয়া রাবারড্যাম পর্যন্ত অংশের একপাশে পাহাড়ী রদী রক্তি, অন্যপাশে হাওরে এখনো পানি। এই অংশে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা জরুরি। না হয় দুর্বল বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে। এই অংশে ট্রাক দিয়ে একটু দূরে থেকেই মাটি নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, হাওরে পানি ধীরগতিতে কমছে, যে অংশ থেকে পানি সরেছে সেখানে বাঁধের কাজ শুরু করতে হবে। বিলম্বে বাঁধ করলে ফসল মৌসুমে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে হাওর। তিনি জানান, উপজেলা হাওররক্ষা বাঁধ মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটির বুধবারের সভায় দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ করা নিয়ে আলোচনা হবে।
জামালগঞ্জের ফেনারবাক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার বললেন, জামালগঞ্জে পাগনার হাওর ছাড়া অন্য হাওরের কোন কোন ক্লোজারের কাজ ডিসেম্বরেই করা যাবে।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলআমিন চৌধুরী জানালেন, হাওরের বেশিরভাগ বাঁধের গুড়ায় এখনো পানি রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে পানি নামলে দ্রুত কাজ করতে হবে। বাঁধের সার্ভে ও প্রাক্কলন তৈরির অগ্রগতি নিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা হাওর রক্ষা বাঁধ মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটির সভা ডাকা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দাবি করলেন, হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ শুরু করার আগে সার্ভে ও প্রাক্কলন করতে হয়। তাঁদের ২২ টি সার্ভে টিম ইতিমধ্যে ৬০ ভাগ সার্ভের কাজ শেষ করেছে। যেখানে সার্ভের কাজ শেষ হয়েছে। সেই অংশে কাজ শুরু করা হবে।
তিনি জানান, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই বাঁধের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে চান তাঁরা। এই লক্ষে ১৩ ডিসেম্বর জেলা হাওর রক্ষা বাঁধ মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। এর আগে উপজেলা কমিটিগুলো সভা করবে।

  • [১]