আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
শনির হাওরে ৩টি ফসল রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যেতে পারে হাওরের ১৫ হাজার হেক্টর বোর জমির ফসল। হুমকির সম্মুখীন বাঁধগুলো হল, সাহেবনগর, লালুর গোয়ালা ও নান্টুখালী ক্লোজার বাঁধ।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল বৃদ্ধি পাওয়া এবং সঠিক সময়ে বাঁধে কাজ না করায় বাঁধগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন শনির হাওরে গিয়ে ঘুরে দেখা যায়, সাহেবনগর বাঁধটিতে কোন কাজ না
করার কারণে নদীর পানি উপচে শুক্রবার ভোর থেকে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। উক্ত কাজের ঠিকাদার সুনামগঞ্জে পার্থ সারথী পুরকায়স্থ। তিনি কিছু দিন পূর্বে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে কাজ করার দায়িত্ব দেন। ইউপি সদস্য কয়েকদিন সামান্য মাটির কাজ করে। পরবর্তীতে ঠিকাদার পানি আসতে বিলম্ব হওয়ার বাঁধে আর মাটির কাজ করেন নি। শুক্রবার সকালে হাওরে পানি প্রবেশ করলে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কেটে কোন রকমে বাঁধটি রক্ষা করেন। তাছাড়া গত বছর শনির হাওরে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ লালুর গোয়ালার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, বাঁধটির বেশ কয়েকটি স্থানে দেবে গেছে। সেই সাথে বাঁধের নীচ দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে হাওরের দিকে পানি প্রবেশ করছে। অপরদিকে নান্টুখালি বাঁধটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে সেই সাথে প্যালাসাইটিং এর জন্য বস্তা সেটিং না থাকায় উক্ত বাঁধটিও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যেতে পারে হাওরের ১৫ হাজার হেক্টর জমির বোর ফসল।
তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন,‘ হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধগুলো টিকাতে হলে জরুরী ভিত্তিতে কাজ করা প্রয়োজন।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহ্ম্মাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাওরের খোঁজ খবর নিচ্ছি। অনেক বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। পাউবো কর্মকর্তাদের জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন,‘ শনির হাওরে বাঁধের খবর পেয়েছি, আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,‘লালুয়ার গুয়ালা বাঁধটি হুমখির মুখে। বাঁধের নীচ দিয়ে পানি হাওরে ঢুকছে। শনির হাওরের ফসল রক্ষা করতে হলে অবশ্যই জরুরী ভিত্তিতে বাঁধে কাজ করতে হবে।’