শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর অফিস
হাওরের সকল বাঁধে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দেখার হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ আহসানমারা বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে এসে প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এসময় বলেন, গত কয়েকদিন সুনাগঞ্জের কৃষকদের জন্য বিপজ্জনক ছিল। প্রথম ধাক্কা সামলানো গেছে। এই ধাক্কায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকার এসব কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে। ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা প্রশাসনের কাছে পেঁৗছেছে। এই সহায়তা দ্রুত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছাতে হবে ।
তিনি বলেছেন, আগামী দুদিন বৃষ্টিপাতের আশংকা আছে। এসময় হাওররক্ষা বাধগুলোকে নিবিড় তদারকির মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ধানকাটা সারতে হবে। হাওরে এখন বহু সংখ্যক ধানকাটার যন্ত্র রয়েছে। শ্রমিকদেরও কাজে লাগাতে হবে। অন্যান্য জেলার শ্রমিকদেরও নিয়ে আসতে হবে। অন্য জেলা থেকে আসার পথে ধান কাটা শ্রমিকরা যাতে বাধার মুখে না পড়ে সেটি প্রশাসন খেয়াল রাখবে।
তিনি আরো বলেন, এ বছর প্রধান কাজ ধান ঘরে তোলা। পরের বছর বাঁধের কাজ আরও ভালো করতে হবে। হাওরে অনেক স্থানে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতি বছরই বাঁধের কিছু কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, হাওরে কম জীবনকালের ধানের বীজের উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম, শান্তিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামছুদ্দোহা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন শরিফী, শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন ও দুলন রাণী তালুকদার, জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ছদরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ ওসি মুক্তাদীর হোসেন প্রমুখ।
এদিকে দুপুর ১টায় জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ পরিদর্শন শেষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এসময় পরিকল্পনানমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, হাওরের বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। তবে এখন দোষাদোষির সময় নয়। সবার আগে হাওররক্ষা করতে হবে। এক সপ্তাহ আগে যে ভয়ঙ্কর অবস্থায় ছিল হাওরের। এখন পানির চাপও কমেছে। প্রকৃতি অনেকটা ভালো। তবুও আমরা সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত নই। সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, হাওর পরিদর্শনকালে একটি আনন্দের বিষয় দেখতে পেলাম, কৃষকরা ধান ধানছেন। ১০ শতাংশ ধান কাটা শুরু হয়েছে। দুই তিনদিনের মধ্যে ৫০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে নলুয়া হাওরের হামহামি বাঁধ বেশি ঝূঁকিপূর্ণ আছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত টেকসই মজবুতভাবে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।
হাওরের কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়ম দুনীর্ির্তর অভিযোগ রয়েছে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমএ মান্নান বলেন, এখনও কাজ নিয়ে দোষাদোষির সময় নয়, আগে হাওরের ফসলরক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবে হাওরের বাঁধের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম দুনীর্তি সহ্য করা হবে না।
এরআগে মন্ত্রী নলুয়া হাওরের চার ও পাঁচ নম্বর প্রকল্পের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় কৃষক ও বাঁধের কাজে সংস্পৃক্ত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ খবর নেন। এসময় তিনি বলেন, বাঁশ, বস্তা ও মাটিসহ বাঁধ রক্ষায় যেসব উপকরণ প্রয়োজন তা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। অর্থের বিষয়টি আমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করব। মিলেমিশে সবাইকে বাঁধরক্ষার কাজ করতে হবে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের জাহাঙ্গীর হোসেন, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার্ (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী সামছু—দু—হা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল, সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, সিরাজুল হকসহ বিভিন্ন পযার্য়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার ( ৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে জগন্নাথপুরের নলুয়া হাওরের ১৫টি বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়ে। এরমধ্যে ওই হাওরের ৭টি বাঁধে বারবার ধসে পড়ছিল। স্থানীয় কৃষকরা এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন।
হাওরপারের কৃষকরা জানান, হাওরজুড়ে কাঁচা আধা পাকা ফসলের সমারোহ। সপ্তাহখানিকের মধ্যে পুরো হাওরের ধান পেকে যাবে। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও বৃষ্টির কারণে গত কয়েকদিন ধরে নলুয়া একের পর এক হাওরের বাঁধ ধসে পড়ছে। এতে করে ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার তিন কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দে ২৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ১৫ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ চলছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার্ (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, সবার্ক্ষনিক হাওরের আছি। পরিস্থিতি এখন অনেকটা ভালো।