- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বাঁধ কেটে কালভার্ট!

স্টাফ রিপোর্টার
বেড়িবাঁধ কেটে কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়েছে। সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের কামারটুক গ্রামের পাশে খরচার হাওরপাড়ের ৬ নম্বর পিআইসি’র বেড়িবাঁধের উপর কালভার্ট নির্মাণের জন্য বাঁধ কেটে ফেলেছে একটি পক্ষ। এ নিয়ে দুই পক্ষের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গৌরারং ইউনিয়নের কামারটুক গ্রামের পাশে খরচার হাওরপাড়ের ৬ নম্বর পিআইসি’র পুরাতন বেড়িবাঁধের উপর কালভার্ট নির্মাণের জন্য বাঁধ কেটে ফেলা হয়েছে। ইটও স্তুপ করে রাখা হয়েছে নির্মাণ স্থানে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কোনো ব্যক্তি মালিকানায় যদি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়, তবে এ নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নানা ঝুটঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে। বরং সরকারী উদ্যোগে যদি কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজন হয়, তবেই নির্মাণ হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
কামারটুক গ্রামের গোলাম আহমদ বাঁধ কেটে কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ সময় অমৃতশ্রী গ্রামের আজমান আলী, ছেলে দিলশাদ মিয়াসহ আরও কয়েকজন বাধা দেন। এই কালভার্ট নিয়ে যখন এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তখনই সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই সাথে সদর থানায়ও অভিযোগ করা হয়। এই খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ—সহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল সিদ্দিকী সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
কামারটুক গ্রামের গোলাম আহমদের কাছে বাঁধ কেটে কালভার্ট নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, খরচার হাওরপাড়ে তাঁর প্রায় ১৪ কেয়ার জমি আছে। জমি আবাদের সময় পানি জমে থাকে। সময়মত ধান গাছ রোপন করা যায় না। এই জন্য নিজের টাকায় বেড়িবাঁধ কেটে কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এসময় কিছু কৃষক কালভার্ট নির্মাণে বাঁধা দিয়েছেন। পরে তাদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এখন যদি প্রশাসন অনুমোতি না দেয় তখন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে না।
খরচার হাওরপাড়ের ৬ নম্বর পিআইসি’র সদস্য সচিব আলী হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ কেটে কালভার্ট নির্মাণ করার উদ্যোগ নিতেই কেউ কেউ বাধা দিয়েছেন। যেখানে কালভার্ট নির্মাণ করতে চায়, এই জায়গার নাম ঢালা। এই ঢালায় প্রায় সময় পানি জমে থাকে। মূলত পানি নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য কালভার্ট নির্মাণ করতে চায় একটি পক্ষ।
সভাপতি আবুল বরকত বলেন, বাঁধ কেটে কালভার্ট নির্মাণ করতে গেলে অনেকে বাঁধা দিয়েছেন। কালভার্ট করলে কোনো ক্ষতি নেই। বরং আরও লাভ। পানি নিষ্কাশন হলে জমি আবাদ করা যাবে। মাছের চাষও করা যাবে। যে টাকা সরকার বরাদ্দ দেবে, তার চেয়ে কম টাকায় গোল আহমদে কালভার্ট নির্মাণ করতে পারবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, কালভার্ট নির্মাণের ১৫—২০ লাখ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া যাবে না। কোনো সংস্থাও দেবে না। এই জন্য একটি পক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে বাঁধ কেটে কালভার্ট নির্মাণের।
গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বলেন, বাঁধ কেটে কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে শুনেছি। যে পক্ষ নির্মাণে বাধা দিয়েছে তারা বলেছে কালভার্ট না করার জন্য থানায়ও অভিযোগ করেছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার বলেন, খরচার হাওরপাড়ের ৬ নম্বর পিআইসির বেড়িবাঁধের উপর ব্যক্তি উদ্যোগে কালভার্ট নির্মাণ করার অনুমোদন দেয়া হয়নি। অনুমোদন না চেয়ে বেড়িবাঁধ কেটে ফেলা বেআইনী। বিষয়টি খুঁজে দেখা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহরুল ইসলাম বলেন, খরচার হাওরপাড়ের ৬ নম্বর পিআইস’র পুরাতন বেড়িবাঁধ কেটে কোনো ব্যক্তি কালভার্ট নির্মাণের নিয়ম নেই। এটা করে থাকলে অন্যায়।

  • [১]