- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বাঁধ দুর্নীতিতে উচ্চ পদস্থরাও ধরা পড়ছেন

বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার মাধ্যমে যেকোন প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হলো। সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন কৌশল অনুসারে উঁচু স্থর থেকে নীচু স্থর পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে তদারকি, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য নানা পদবীধারী ব্যক্তিগণ দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন। কিন্তু এই দায়িত্বপ্রাপ্তরা বরাবরই কোন অনিয়ম/দুর্নীতির দায়িত্ব গ্রহণে অনাগ্রহী থাকেন। কোন প্রকল্পের অনিয়ম বা দুর্নীতি ঘটলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া হয়। আর ওইসব রাঘব-বোয়ালরা থেকে যান আড়ালেই। এবার দুদক হাওরের বাঁধ নির্মাণের তদন্ত করতে যেয়ে আড়ালের কুশীলবদেরও সামনে নিয়ে আসল। এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি ভাল উদাহরণ হয়ে থাকবে বলেই আমাদের ধারণা। দুদক পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমদ খান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ড. মোহাম্মদ আলী খান, যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন-১ হাওর) নুজহাত ইয়াসমীন, যুগ্ম প্রধান( পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মন্টু কুমার বিশ্বাস, পাউবোর মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: জাহাঙ্গীর কবির, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিওন) একেএম মমতাজ উদ্দিনসহ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সম্যান্ট কমিটির সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও সরকারি কাজে প্রশাসনিক অদক্ষতার দায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই ঘটনা একটি দৃষ্টান্তস্থাপনকারী বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হবে। মূলত প্রকল্প প্রণয়ন ও অর্থ ছাড়ের সাথে উপর্যুক্ত কর্মকর্তাগণ সরাসরি জড়িত থাকেন। তাঁদের নেতৃত্বেই মূলত প্রকল্পটি পরিচালিত হয়। সুতরাং প্রকল্পের নি¤œ অথবা মধ্যস্তরে কোন অনিয়ম/দুর্নীতি সংঘটিত হলে বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সেটি তাঁদের অগোচরে কখনও হতে পারবে না। এছাড়াও তারা প্রকল্প কর্মকা- তদারকি ও মূল্যায়নের জন্য যেসব কমিটি করে দেন তারাও এই অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা সম্পর্কে অবগত থাকেন বলেই ধারণা করা যুক্তিসঙ্গত। যদি তাঁরা বলেন কিছু জানি না তাহলে তাদের অদক্ষতার বিষয়টি ফুটে উঠে। দায়িত্বে থেকে তারই অধীনে কোথায় কোন অনিয়ম/দুর্নীতি হচ্ছে সেটি না জানা অদক্ষতার পরিচায়কই বটে। আর হাওরের বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম/দুর্নীতির বিষয়টি তো ওপেন সিক্রেট। সুতরা জানি না বলে দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই কারও। দুদক যথাযথভাবেই সমস্যাটি চিহ্নিত করতে পেরেছে।
জেলা পর্যায়ে বাঁধের কাজ পরিদর্শন ও মনিটরিং করার জন্য জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। গণমাধ্যমে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম নিয়ে প্রতিবছরই সংবাদাদি প্রকাশিত হয়ে থাকে। এবার অনেক বেশি হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণও অনিয়মের বিষয়গুলো অবিহিত করেন। কমিটি নিজেরাই পরিদর্শন করে কাজের মান যাচাই করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিন্তু এই কমিটি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে বলে কৃষকরা কখনও জানতে পারেন না। মূলত আমাদের জাতীয় চরিত্রে দুর্নীতি নামক যে রাহুটি জায়গা করে নিয়েছে তার দাপট এতোটাই যে সকলেই কোন না কোন ভাবে তার সহায়ক হয়ে পড়েন। এটি জাতির দুর্ভাগ্য বৈকি। ছাগলে ধান না খাওয়ার জন্য যে বেড়া দিয়ে রাখা হয় সেই বেড়া থাকতেও যদি ধান কমতে থাকে তাহলে বেড়াকে দোষ দেওয়া ছাড়া আর কোন গত্যন্তর আছে কি?
সুনামগঞ্জের বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম/দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক যে এ্যাকশন শুরু করেছে তা দেশের সর্বত্র অনুসৃত হলে দুর্নীতি নামক দৈত্যের হাত থেকে জাতি রেহাই পাবে। দুর্নীতি যেরূপ আমাদের যাবতীয় সম্ভাবনাকে গিলে খাচ্ছে  সেখানে কঠোরতা ভিন্ন পরিবর্তনের আশা বাতুলতা মাত্র।
    

  • [১]