- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বাঁধ নির্মাণে নতুন নীতিমালার সফল বাস্তবায়ন কাম্য

সামনের মৌসুমে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে লাগসই পদ্ধতি, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন একটি বড় আকারের মতবিনিময় সভা করেছেন। বাঁধ নির্মাণের জন্য পিআইসি গঠনের নতুন নীতিমালা ঘোষণার পর জেলা প্রশাসনের এটিই প্রথম সভা। সভায় জানানো হয়, আগামী মৌসুমে পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের জন্য ২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নতুন নীতিমালা অনুসারে এই টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অনুকূলে ন্যস্ত করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রজেক্ট ইমপ্লিমেনটেশন কমিটি গঠন করবেন এবং তাঁরই নেতৃত্বে গঠিত উপজেলা কমিটির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ কাজ মনিটরিং করা হবে। বাঁধ নির্মাণে পূর্বেকার সংসদ সদস্যগণের ক্ষমতা বহুলাংশে নতুন নীতিমালায় রহিত করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ঠিকাদারী প্রথায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ করা হয়নি এবং এখন পর্যন্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের কোন বরাদ্দও আসে নি। আশা করা যায় এই বিষয়েও শীঘ্রই প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে। তবে জেলা প্রশাসক মঙ্গলবারও বলেছেন, যেখানে ঠিকাদার পাওয়া যাবে না সেখানে পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে। গত বছর ও এর আগের বছর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ/সংস্কার নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় এবং গতবছর শতভাগ বোরো ফসল ডুবি হওয়ার প্রেক্ষিতে ব্যাপক জনমতের কারণে এই নতুন নীতিমালা জারি করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। হাওরপাড়ের কৃষকসহ পুরো ভাটি অঞ্চলের মানুষ এই নীতিমালার কার্যকারীতা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
কৃষকরা বরাবরের মতোই নিতান্তই সাদামাটা চাহিদা পোষণ করেন। সেটি হলো বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার প্রতিবছর যে বরাদ্দ দেন সেটি যাতে সঠিকভাবে ব্যয় করা হয়। সকলের জানা বিষয় হলো বোরো ফসল গোলায় তোলার আগে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, অকাল বন্যা, শিলাবৃষ্টি, খড়া- এমনসব প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবিলা করতে হয়। কারণ বোরো ফসল মৌসুমে আমাদের দেশে এইসব প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যাকে মোকাবিলা করার জন্য সরকার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দ দেন। অধিকাংশ বছর এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ সহনীয় পর্যায়ে থাকায় কৃষক ও সাধারণ মানুষ বাঁধ নির্মাণের বরাদ্দ নয়-ছয় করা নিয়ে তেমন মাথা ঘামান না। কিন্তু গতবছর শতভাগ ও এর আগের বছর প্রায় ৬০ ভাগ ফসল বিপর্যয় ঘটায় বাঁধ দুর্নীতির বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। এই দুর্নীতি নিয়ে ইতোমধ্যে দুদক ও জেলা আইনজীবী সমিতি দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে। এই আলোচনার ব্যাপকতার কারণেই সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। এখন নতুন নীতিমালাটি যাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হয় সেটি প্রমাণের বিষয়। নতুন নীতিমালায় যাদেরকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাঁদের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার উপর এখন সবকিছু নির্ভর করছে। আশার কথা হলো জেলা প্রশাসন এইক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বিধানের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কৃষকের আশা ও ভরসার জায়গাও আপাতত এটুকুই।  

  • [১]