এবার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য উপজেলাওয়ারী যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা গতবছরগুলোর চাইতে বেশ কম বলেই প্রতীয়মান হয়। বিভিন্ন উপজেলা থেকে বরাদ্দের চাইতে অনেক বেশি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। আসন্ন বাঁধ নির্মাণ মৌসুমে প্রকল্প প্রস্তাবের বিপরীতে অপ্রতুল আর্থিক বরাদ্দের বিষয়টি জটিলতা তৈরি করতে পারে। সংবাদে জামালগঞ্জ, সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বরাদ্দ ও প্রেরীত প্রকল্পের তথ্য দেয়া আছে। দেখা যায় এই ৬ উপজেলায় বাঁধ নির্মাণের জন্য বর্তমান বরাদ্দ ১৪.৩২ কোটি টাকা। অথচ প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে ৪২.১০ কোটি টাকার। সম্প্রতি সরকার কর্তৃক বাঁধ নির্মাণের জন্য উপজেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এইসব প্রকল্প প্রস্তাবনা পাউবোর সদর দপ্তরে পাঠিয়ে বর্ধিত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কার্যত ১৫ ডিসেম্বর থেকে হাওরগুলোতে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কথা। আজ ১৮ নভেম্বর। অর্থাৎ বাঁধের কাজ শুরু করার নির্ধারিত তারিখ শুরু হতে এক মাসেরও কম সময় হাতে রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যদি প্রকল্প ও বরাদ্দের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হয় তাহলে সময়মতো কাজ শুরু ও শেষ করার বিষয়টি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এদিকে প্রাপ্ত তথ্যমতে জেলার বিভিন্ন হাওর থেকে ধীর গতিতে পানি নামার খবর পাওয়া গেছে। অন্যান্য বছর যেখানে এই সময়ের মধ্যে কৃষকদের বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যেত এবার বেশির ভাগ জায়গায় এই কাজ কৃষকরা শুরুই করতে পারেন নি। সুতরাং সামনের বোরো মৌসুমটি আরও একটি দুর্ভাবনা ও হতাশার কারণ হয় কিনা তা ভেবে দেখার বিষয়।
গত বছর ভয়াবহ ফসল বিপর্যয়ের পর সরকার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। শক্তিশালী বাস্তবায়ন ও তদারক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এতসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্বেও উপজেলাগুলোর বরাদ্দের পরিমাণ ও প্রকল্প প্রস্তাবনা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে না পারা উদ্বেগজনক। প্রকাশিত সংবাদ থেকে আরেকটি তথ্য পাওয়া যায়, সেটি আরও খারাপ। জগন্নাথপুর, শাল্লা, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার কোন প্রকল্প প্রস্তাবনা এখন পর্যন্ত পাঠানো সম্ভব হয় নি। এজন্য পাউবোর নতুন পওর-২ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জনবল সংকটের কারণে বিলম্বের কথা উল্লেখ করে দ্রুত প্রকল্প প্রেরণের আশ্বাস দিয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে আসলে ঘর পুড়া গরুর মতো আকাশে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন হাওরের কৃষকরা। বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার বিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ তাই কাম্য।
হাওরে বোরো ফসল বিনষ্ট হওয়ায় এবার দেশে খাদ্য সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে সরকারকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পুরো বছরজুড়ে নিদারুণ অভাব অনটন মোকাবিলা করে সামনের মৌসুমে ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখছেন। তাদের এই স্বপ্ন আবারও যাতে দুঃস্বপ্নে পরিণত না হয় সেজন্য যাবতীয় আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সহজতর করার দাবি সকলের। আমরা বিষয়টির প্রতি স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।