জামালগঞ্জ সংবাদদাতা
জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের শাহপুরের বাঁধ বন্যায় ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর সাময়িক চলাচলের জন্য মরা নদীর খালে ১০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো তৈরি করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু একমাস যেতে না যেতেই নড়বড়ে হয়ে গেছে সাঁকোটি। এতে দুইটি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সাঁকো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ফেনারবাঁক ও ভীমখালী ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে থাকেন। বিগত বন্যায় বাঁধ ভেঙে গেলে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সাময়িক চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। কিন্তু এক মাস যেতে না যেতেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে সাঁকোটি। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি কলেজ, দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুইটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন এই সাঁকো দিয়ে। সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, অটোরিক্সা চলাচল করায় ঘটছে দুর্ঘটনাও।
জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার ও ঝুমা সরকার জানান, সেতুটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় আমাদেরকে। সেতুতে উঠলেই সেটি কাঁপতে থাকে। তখন ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন জানি সেতু ভেঙে পড়ে যায়।
ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের ব্যবসায়ী মালামাল সাচনা বাজার থেকে কিনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে থাকি। এ সাঁকো দিয়ে ভ্যান চলাচল করতে না পারায় নিজেদের মাথায় করে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, বিগত বন্যায় বাঁধ বাজারের বাঁধটি ভেঙে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সাময়িক চলাচলের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে বাঁশের সাঁকো করে দেওয়া হয়। আগামী উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আলোচনা করে জনদুর্ভোগ দূর করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে সাঁকোটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।