- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

খুলেছে বর্ডারহাট/বাংলাদেশী দোকানীরা ভারতীয় ক্রেতার চাহিদার পণ্য চান

বিশেষ প্রতিনিধি
ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সীমান্তের বর্ডারহাটগুলোর মধ্যে জমজমাট সুনামগঞ্জের ডলুরা বর্ডারহাট। তবে এই বর্ডারহাটে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ক্রেতা কম। প্রতি মঙ্গলবার বসা হাটে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে, ক্রেতাও বেশি। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ভারতীয় ক্রেতাদের চাহিদা মাফিক পণ্য দিতে না পারায় বিক্রি কম হচ্ছে তাদের।
বর্ডারহাটে গত মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেলা ১১ টার পরই কয়েক’শ বাংলাদেশী ক্রেতার ভিড়, সেই তুলনায় ভারতীয় ক্রেতা এবোরেই কম। ওপারে শৃঙ্খলাও এপারের চাইতে ভালো।
বাংলাদেশ অংশের দোকানী সীমান্তগ্রাম ফেনীবিলের বাসিন্দা হেলাল মিয়ার ছেলে ইমান আলী বললেন, আমাদের ২০ দোকানের সমান বিক্রি করে ভারতীয়দের এক এক দোকানে। ভারতীয় প্রসাধন সামগ্রী, টুথব্রাশ, চকলেট, দুধসহ নানা ধরণের শিশু খাদ্য, পায়ের সেন্ডেল, মসলা, পান-সুপারী কিনতে শত শত ক্রেতা ঢুকেন, প্রতি হাটবারে হাজার হাজার টাকার পণ্য কিনেন তারা। ওখানকার (ভারতীয়) ক্রেতাই কম আসেন। তাদের অংশে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তাও বেশি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ বেশি টাকা নিয়ে কাউকে ঢুকতে দেয় না। এছাড়া ভারতীয় ক্রেতারা ছোলা-মোটর, ডাল, রসুন, শুটকি ও ডিম খুঁজেন। আমাদের দোকানে এসব পণ্য রাখার অনুমতি নেই। একারণে আমাদের বিক্রি কম।
ইমান আলীর পাশে বসা ভারতীয় সীমানার ডাঙার এলাকার বাসিন্দা মেরালী বাংলা বুঝেন না, যেটুকু বুঝেছেন, তাতেই ইমান আলীর কথায় সায় দিলেন।
বাংলাদেশী দোকানী আব্দুল খালেকও ইমান আলীর বক্তব্য সমর্থন করে বললেন, যেসব পণ্য বর্ডারহাটে বিক্রয় করলে দেশের ক্ষতি নেই, অথচ ভারতীয়দের চাহিদা আছে, সেগুলো বিক্রয়ের অনুমতি দিতে হবে। তাদের অংশের ক্রেতা আসতে যাতে বাধার স্বীকার না হয়, সেই বিষয়েও দুই দেশের বর্ডারহাট পরিচালনা কমিটির বৈঠকে আলোচনা করতে হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক বললেন, মাছ-শুটকি, ডিম, ছোলা-মোটর বিক্রয়ের অনুমতি মিললে বাজারে বাংলাদেশী দোকানীদের বিক্রয় বাড়বে।
সুনামগঞ্জ সীমান্তেরর ডলুরা এলাকায় ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল গড়ে ওঠা দেশের ২য় ডলুরা- বালাট বর্ডারহাট সুনামগঞ্জ সীমান্তের জনপ্রিয় বর্ডারহাট। এপারের ২৫ জন দোকানী এবং ওপারের ২৫ জন দোকানী এই হাটে বিক্রেতা হিসাবে বসেন।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তের বাগানবাড়ী বর্ডারহাটও গেল এপ্রিল মাস থেকে চালু হয়েছে। করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল ডলুরা বর্ডারহাট। ১৬ জুনের ভয়াবহন বন্যার সময়ও কয়েক হাটবারে আসেন নি ক্রেতা-বিক্রেতাগণ। করোনা-বন্যার ভয়াবহতা জয় করে এখন হাট জমিয়েছেন দুই দেশের ব্যবসায়ী ক্রেতারা।
বর্ডারহাটে দায়িত্ব পালনকারী কাস্টম অফিসার মোস্তফা কামাল জানালেন, ডলারের দাম বাড়ায় ক্রেতাগণ অনুমোদিত ২০০ ডলারে এখন অনেক বেশি পণ্য পাচ্ছেন। বাজার কমিটি বসে ক্রেতাদের বিক্রয়ের বাধ্যবাধকতা ২০০ ডলার থেকে কমিয়ে ১০০ ডলার করার প্রস্তাব করেছেন তিনি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (বাংলাদেশ অংশে বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি) বাজারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্যও কিছু কাজ করার প্রস্তাবনা দিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর হোসেন জানালেন, বর্ডারহাট ঘুরে তিনি অনুধাবন করেছেন, বাংলাদেশী মানুষজন ভারতীয় মসলা, কসমেটিক্স, পান-সুপারীসহ নানা জাতের পণ্য কিনতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন। সেই তুলনায় বাংলাদেশী দোকানীদের প্লাস্টিকের ও মেলামাইনের ব্যবহার্য সামগ্রীসহ কিছু কাপড়চোপড়ের দোকান থেকে ভারতীয় ক্রেতারা কিনছেন না। এ কারণে দুইপক্ষের দোকানীদের মধ্যে ভারসাম্যহীন অবস্থা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের বর্ডারহাট পরিচালনা কমিটি আছে, কোন দেশের কোন কোন পণ্য বাজারে আসবে, সেটি আগে থেকেই নির্ধারিত আছে। এখন হাট পরিচালনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, আমাদের নির্ধারিত পণ্যগুলো ভালো চলে না। বাংলাদেশী অন্য খাদ্য পণ্যের ডিমান্ড আছে, যেমন শুটকি-মাছ ইত্যাদি। আমরা দুই দেশের পরিচালনা কমিটি সভা করে বিক্রয় তালিকা চাহিদা অনুসারে সংশোধন করবো। না হলে বর্ডারহাট টেকসই হবে না।
উল্লেখ্য, সীমান্তর তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বর্ডারহাট এখনো চালু হয় নি, সেটি চালু হলে সুনামগঞ্জ সীমান্তেই বসবে তিনটি বর্ডারহাট।

  • [১]