রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু
ডাঃ ডেভিড নেলিন যুক্তরাষ্ট্রের আলবেনি মেডিকেল কলেজের প্রফেসর এমেরিটাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। নিউইয়র্কের বইমেলা ২০১৬তে তাঁর সাক্ষাৎকার ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও নেই। নেলিন ভাল বাংলা জানেন। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি, দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা দেয়ায়।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান এই মার্কিন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সে বছর জুলাই মাসে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে পাকিস্তানী অস্ত্রবাহী জাহাজ বাংলাদেশের জল সীমানায় প্রবেশ করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ই জুলাই আমরা একদল লোক বাল্টিমোর সমুদ্রবন্দরে কয়েকটি ডিঙি নৌকা নিয়ে একটি অস্ত্র বোঝাই পাকিস্তানি জাহাজ আটকে দেই। এই জাহাজে যে পরিমাণ অস্ত্র ছিল তা কয়েক হাজার টন হবে। আমাদেরকে নিবৃত্ত করার জন্য সেদিন বিশেষ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। এসব বিপদের কথা আমরা জানতাম তবে তা আমলে নেইনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে আমি ছাড়া আমার সহপাঠি আমেরিকান বন্ধুদের বাংলাদেশের ব্যাপারে কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। আমরা ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার গঠন করি মূলত মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের ভেতর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে লবিং করার জন্য। সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি আমাদের যথেষ্ট সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন। এছাড়াও অনেক ডেমোক্রেট সদস্যও আমাদের সহযোগিতা করেন।
বাল্টিমোরে আমরা যে যুদ্ধ জাহাজ আটকানোর চেষ্টা করছি তা নিউইয়র্ক টাইমসসহ অনেক পত্রিকাই ফলাও করে ছেপেছে। এবং বাংলাদেশে নিরিহ লোকজনের উপর যে হত্যাযজ্ঞ চলছে আমেরিকানরা তখন জানতে পারে। তিনি জানান, আমাদের বিক্ষোভের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বন্দর শ্রমিকরা যাতে পাকিস্তানের জন্য কোন অস্ত্র জাহাজ বোঝাই না করে সে ব্যাপারে তাদের উদ্বুদ্ধ করা। এবং এ ব্যাপারে আমেরিকার প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সাহায্যের হাত বাড়ায়। এমনকি জাহাজ শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থাও তাতে সমর্থন জানায়। সমুদ্রবন্দরে নৌকা ভেড়ানো নিষিদ্ধ ছিল। আমরা কোন অনুমতি ছাড়াই ৫/৬টি নৌকা নিয়ে বন্দরে নেমে পড়েছিলাম জাহাজ আটকানোর জন্যে তাতে আমাদের মৃত্যু হতে পারত। এক পর্যায়ে বন্দর পুলিশের টগি বোট এসে আমাদের ও জাহাজের মধ্যে প্রাচীর গড়ে তুলে এবং আমাদের কয়েকজন সহপাঠীকে এরেস্ট করে নিয়ে যায়। অবশ্য একদিন পর ছেড়ে দেয়। এভাবেই আমরা বিক্ষোভ করি। প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে আপনার আগ্রহের কারণ কি? উত্তরে বলেন – ১৯৬৭ সালে আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট হেল্্থ বাংলাদেশে কলেরা গবেষণা হাসপাতালে চাকুরি দিয়ে পাঠায়। ১৯৬৮ সালে কলেরার প্রতিষেধক হিসেবে অরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি আবিষ্কার করি। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আমি ঢাকায় ছিলাম প্রায় তিন বৎসরেরও অধিককাল। ঢাকায় থেকে বাংলাদেশের একজন বন্ধু হয়ে যাই। তাই হৃদয়ের তাগিদ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করি।