স্টাফ রিপোর্টার
আজ ১৬ ডিসেম্বর। ৫০তম মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্য-বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখ-ের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার চিরস্মরণীয় দিন।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে। ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে যৌথবাহিনীর কাছে। যেখান থেকে ৭ মার্চ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,’ বলে স্বাধীনতার ডাক দেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আর জাতি অর্জন করে হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা।
এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।
১৯৭১ সালে যে বিজয় আমরা ছিনিয়ে এনেছিলাম, তা দেশের মানুষ পেয়েছে- কেবল নাগরিক উচ্চ ও মধ্যবিত্তেরা নয়, গ্রামীণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের কাছেও তা পৌঁছেছে। তবে বৈষম্য দূর হয়নি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার মাত্রা হয়তো বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির তালিকা দীর্ঘ হবে। আগামী দিনগুলোতে আমরা কী করতে পারব, তা এক বড় কথা। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক লক্ষ্য কি আমরা অর্জন করতে সমর্থ হবো কিংবা আমরা কি তা করতে চাই। স্বাধীনতা লাভের প্রায় অর্ধশতাব্দী পরে অনেক কিছুর প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন পরিস্থিতি নতুন সংকল্প, নতুন সমাধান দাবি করে, তাও আমাদের মনে রাখতে হবে। শহীদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেবো না, ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বরের উল্লাস আমাদের ধরে রাখতে হবে। সেদিন তো আমাদের অভাব-অনটনের শেষ ছিল না, তবু আমরা শত্রুমুক্ত দেশের বাতাস নিয়েছি বুক ভরে। অনতিক্রম্য বাধা পেরিয়েই তো এসেছে ১৬ ডিসেম্বর। দেশ এগিয়ে যাবেই; পূরণ হবে আমাদের সব স্বপ্ন।
আজকের দিনে বিজয়োল্লাসে ভাসবে দেশ, আনন্দে উদ্বেলিত হবে গোটা জাতি। উৎসবের সমারোহে জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদকে।
দিবসের কর্মসূচি
যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। কোভিড ১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল ৭.৪৫ মি. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৮টায় সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক সভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ১০টায় ভার্চুয়ালি ‘জাতীয়র পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির র্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে জেলা সদর হাসপাতাল, জেলা কারাগার, সরকারি শিশু পরিবারে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন।
এছাড়াও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।