- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বাজারেও চালের দাম বৃদ্ধি

লিপসন আহমদ
হাওরের ফসলহানি ও আগাম বন্যায় বোরো ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় শহরের চালের দোকানগুলোতে ক্রমাগত চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে চালের দাম কেজি প্রতি হঠাৎ করে ৪-৫ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধি এবং দোকান গুলোতে মূল্য তালিকা না থাকায় ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক করতেও দেখা গেছে। বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধি এবং ওএমএসের চালের দাম দ্বিগুণ হওয়ায়  মাঝারি, ক্ষুদ্র চাষি ও শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।
রবিবার সরেজমিনে শহরের      
 জেলরোড, সুরমা মার্কেট সহ-বিভিন্ন চালের দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে পাইজম ৫৪, সিদ্ধ চাল ৪৫, নাজির শাইল চাল ৬০, জিরা  সাইল ৫৮, পোলাও চাল ৬০, উনত্রিশ চাল ৪৫, আটাশ চাল ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একদিনের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ৪/৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।  
বিক্রেতারা বলছেন, আমরা ইচ্ছা করে চালের দাম বাড়াইনি। জেলার কোন মিলে চাল নেই। বাইরের জেলা থেকে ধান ১৩শ’ টাকা মণ কিনতে হয়। কাল (শনিবার) যে ধানটা আমি ১৩শ’ টাকা মণ কিনেছি আজ (রবিবার) সেটা ১৪শ’ টাকায় কিনতে হয়েছে।  আর  মিল মালিকরা বাইরের কোন জেলা থেকে দামের জন্য চাল সংগ্রহ করছেন না। এভাবে চলতে থাকলে চালের দাম আরো বাড়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়াও হাওরে ফসলহানির প্রভাব পড়েছে পুরো বাংলাদেশে।
রিক্সা চালক রমিজ মিয়া বলেন, ‘চালের দাম আমাদের মত দরিদ্র মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। কি করে বাঁচব। একবার খেয়ে ছেলে-মেয়ে, পরিবার নিয়ে কোনক্রমে বেঁচে আছি।’
ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার মতো মধ্যবিত্ত মানুষ কোন রকম খেয়ে পড়ে আছি। গতমাসে যে চালের বস্তা ২২শ’ টাকা কিনেছেলাম এবার সেটা বেড়ে ২৪শ’ ৫০টাকা হয়েছে। আমি ছোট একটা চাকরি করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সমাজের এমন এক অবস্থানে আছি না পারি কারো কাছে হাত পাততে, না পারি কাউকে কিছু বলতে। সরকারের উচিৎ এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’
সুধাংশু এন্ড সন্সের ব্যবস্থাপক খুশ পাল বলেন, ‘স্থানীয় মিলে চাল নেই। বাইরের জেলা থেকে চাল এনে আমরা বিক্রি করছি। জেলায় ধান না উঠায় সংকট দেখা দিয়েছে। তাই ক্রমাগত চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য আমাদের খুচরা বিক্রেতাদের কিছু করার নেই। ’

  • [১]