- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বাজারে এসেছে হাসাউড়ার আনারস

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জের বাজারে আসা শুরু হয়েছে সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হাসাউড়া এলাকার একাধিক বাগের সুস্বাদু আনারস। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন স্থানে অল্প পরিমাণে আনারস বিক্রি হতে দেখা গেছে। শনিবার সকালে শহরের জুবিলী স্কুলের মাঠের পাশে বেশি পরিমাণে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এই আনারস নিয়ে এসেছেন। আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত হাসাউড়ার আনারস বিক্রি করা যাবে বলে জানান একাধিক পাইকারী ব্যবসায়ী।
গত বছরের তুলনায় এবার আনারসের উৎপাদন অনেকটা বেশি হয়েছে। তবে অসহনীয় গরমে সামান্য ক্ষতিও হয়েছে আনারসের। বাজারে আসা প্রথম পর্যায়ের আনারসের দাম একটু বেশি হলেও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তা কমে আসবে। এখন প্রতিদিন ১০-১২জন পাইকারী ব্যবসায়ী আড়াই থেকে তিন হাজার আনারস হাসাউড়া, দর্পগ্রামের বানাইগাঁও, রসুলপুর ও মাঠগাঁওয়ের বাগ থেকে নিয়ে আসছেন বাজারে। আগামী সপ্তাহে এই আনারস জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হবে। এমনকি জেলার বাইরেও পাইকারী দরে বিক্রি করা হবে।
পাইকারী বিক্রেতা বিধান দাস, সবুজ দাস, অমিত দাস, সঞ্জিত দাস জানান, প্রতি শ’ আনারস পাইকারী হারে বিক্রি করছেন ৩ হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়। এই আনারস তাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে শহরের ব্যবসায়ীরা খুচরা দামে বিক্রি করছেন। তবে প্রতি সপ্তাহের শুক্রবারে বাগের আনারস কাটা বন্ধ থাকে। খুচরা ব্যবসায়ীরা আগের দিনের আনারস বিক্রি করেন বাজারে।
শহরের খুচরা ব্যবসায়ী অমর দাস, ইকবাল হোসেন, মাহতাব উদ্দিন, রন দাস বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে হাসাউড়ার বাগের আনারস বিক্রি করে আসছি। প্রথম দিকে দামে কিনে আনারস দামেই বিক্রি করছি। প্রতিবছর বেশি পরিমাণে বাজারে আসলে আনারসের দাম কমিয়ে বিক্রি করতে হয়।
খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল, দিলাল হক, আব্দুল কদ্দুছ, মোহাম্মদ মুসা বলেন, হাসাউড়ার আনারস খুবই সুস্বাদু। এই জন্য হাসাউড়ার আনারস সকলে পছন্দ করেন। আমি প্রতি হালি আনারস সর্বনিম্ন ছোট আকারের ১৫০ টাকা হালি, মাঝারি ২শত টাকা এবং বড় আকারের আনারস ২৫০ টাকা প্রতি হালি বিক্রি করছি।
আনারস ক্রেতা আব্দুল জব্বার, সুজন মিয়া ও জয়ন্ত দাস বলেন, রসে ভরা হাসাউড়ার আনারস। স্বাদে ও গন্ধে মন ভরে যায়। পরিবারের সবাই সারা বছর অপেক্ষা করেন হাসাউড়ার আনারসের জন্য। দাম বেশি হলেও খেয়ে তৃপ্তি পাই।
বাজারে আসা আনারস ক্রেতা রাশিদ আহমদ ও জাকের আলী বলেন, হাসাউড়ার আনারস খুবই লোভনীয়। দেখা মাত্র নেওয়ার জন্য দাম দর করি। পরে এক জোড়ার পরিবর্তে এক হালি নিয়ে যাই। পেট ভরে খাই। তবুও বার বার খেতে ইচ্ছে হয়।
আনারসের ক্রেতা শাখাওয়াত হোসেন পলাশ বলেন, হাসাউড়ার আনারস এতোই সুস্বাদু যে যদি সারা বছর রেখে খাওয়া যেতো এবং আনারসের স্বাদ এভাবেই থাকতো। তবে সংরক্ষণ করে রাখতাম।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের জুবিলী স্কুল মাঠের পাশে, ট্রাফিক পয়েন্ট, পৌর মার্কেটের সামনে এই হাসাউড়ার আনারস বিক্রি হতে দেখা গেছে।

  • [১]