ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শীতের অনেক সৌন্দর্য্যরে মাঝে বাজার ভর্তি শীতকালীন সবজি অন্যতম একটি। শীতকাল এসেছে অথচ বাজারে হরেক রকমের সবজি থাকবে না সে কি হয়? শীত বাড়ছে। শীতের সাথে সমানে পাল্লা দিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি বাজারে বাড়ছে শীতকালীন টাটকা সবজি। যা ক্রেতাদের যেমন সবজির চাহিদা পূরণ করছে তেমনি আলাদাভাবে যোগান দিচ্ছে সুষম পুষ্টিরও। ফুলকপি, বাঁধাকপি, অনেক জাতের সীম, নতুন আলু, মুলা, ডেঙ্গা (ডুগি), স্থানীয় বড়ই প্রভৃতি সবজিতে গ্রামীণ বাজারগুলো সয়লাব। একে তো টাটকা তার উপর দামে কম হওয়ায় এসব সবজিতে বেশ ঝুঁকছেন ক্রেতারা। বিক্রি বেশি হওয়ায় খুশি সবজি ব্যবসায়ীরাও।
উপজেলার পাগলা বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজার, পাথারিয়া ও আক্তাপাড়া মিনাবাজারের একাধিক সবজি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে অনেক কৃষক রবিশস্য চাষ করে থাকেন। শীতকাল অর্থাৎ হেমন্তকালে এসব শস্য বাজারে আসতে শুরু করে। সব সবজিই থাকে টাটকা। এজন্য ক্রেতাদের আকর্ষণও থাকে খুব বেশি। স্থানীয়ভাবে চাষাবাদ হয় বলে সবজির দামও থাকে ক্রয়ক্ষমতার মাঝে। তাই বেচাকেনা বেশ ভালো হয়। বেশি বিক্রি হয় বলে মুনাফা হয় বেশ ভালো।
কৃষকরা জানান, সুনামগঞ্জের সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে সবজি যাচ্ছে বাজারে বাজারে। বিশেষ করে মঙ্গলকাটার আশপাশ এলাকা, শৈতপুর, জরজরিয়া, দিনারপুর, সুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসব সবজি সুনামগঞ্জের জেলগেটের সুরমা নদীর পাড়ের বাজারে আসে। মূলত বেশিরভাগ খুচরা বিক্রেতারা এ বাজার থেকেই সবজি কিনে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এনে বিক্রি করেন। ভালো ও কম দামে সবজি সংগ্রহ করতে দোকানিরা খুব ভোরে ছুটে যান পাইকারি বাজারে।
বিক্রেতারা জানান, সব ধরণের সিম বর্তমান বাজার মূল্য ২০ থেকে ২৫ টাকা, বড় একটি ফুলকপি বিক্রি করছেন ১৮ থেকে ২০ টাকায়, প্রতিটি বড় বাঁধাকপি ১২ থেকে ১৫ টাকা, নতুন আলুর দাম ১৮ থেকে ২০ টাকা, মুলার আঁটি (প্রতি আটিতে ১০/১২টি মুলা থাকে) ১০-১৫ টাকা, ডেঙ্গার আঁটি ১৫-২০টাকা। সবজির এমন দামে ক্রেতারা সন্তুষ্ট। এসব টাটকা সবজি কিনতে বাজারে আসছেন অতিরিক্ত ক্রেতা। দোকানিরা জানান, সকালে যে সবজি সংগ্রহ করা হয় বেলা ২টা হওয়ার আগেই অধিকাংশ দিন সবজি শেষ হয়ে যায়। এখন সিজন (মৌসুম) হওয়ার কারণে দাম কম। ক’দিন পরেই দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পাগলা বাজারে কথা হয় সবজি ক্রেতা সুবোধ আলীর সাথে। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। সুবোধ বলেন, তাজা তাজা সবজি দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু আলু ও একটি ফুলকপি কিনেছি। দুইটা কিনতে আমার খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫ টাকা। এমন দাম যদি সব সময় থাকতো তাহলে আমাদের মতো গরিবরা কিছুটা হলেও রক্ষা পেতাম। সবজির দামে ২০/৩০ টাকা বেঁচে কি হবে অন্য যে কোনো পণ্য কিনতে গেলেই দ্বিগুণ টাকা গুনতে হবে। তবে সবজির বাজারে এতো এতো টাটকা সবজি ও দাম কম দেখে ভালো লাগছে।
আসামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বিভিন্ন জাতের সিম আর আলুর পশরা সাজিয়ে বসেছেন পাগলা বাজারের গলির ভিতরে উত্তর মাথায়। দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ভিড়ের মাঝেও কিছুটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ ভোরে দিনারপুর থেকে এসব মাল (সবজি) পিকআপে করে এনেছি। যাতায়াত খরচসহ একটা পর্তা ধরে দর নির্ধারণ করে বিক্রি করছি। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দাম খুব কম। একটা বাঁধাকপি ১০/১৫ টাকা। এবার বুঝুন কত কম দাম। গাড়িভাড়া বেশি, না হলে আরো কম দামে বেচতে পারতাম। ক্রেতা মোটামুটি ভালোই।