- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বাদ পড়ারা রাজধানীমুখী

বিশেষ প্রতিনিধি
দলীয় সদস্য সংগ্রহ অভিযানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহান জেলার ৫ টি আসনের মধ্যে ৪ টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম রোববার ঘোষণার সময় আগ্রহী অনেকেরই নাম বলেননি। বিএনপি নেতা-কর্মীদের কাছে এই নামের তালিকা ছিল সোমবার প্রধান আলোচ্য বিষয়। এই ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ রাজধানীতে গিয়ে সোমবারই কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
অনেকেই বলেছেন বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী তালিকা ছোট করে নিয়ে এসেছেন মো. শাজাহান। অবশ্য. তিনি সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনের দলীয় কোন প্রার্থীর নাম বলেননি। রোববার বিকালে সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্টেশনে বিএনপির জেলাব্যাপি সদস্য সংগ্রহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাবেশ হবার কথা ছিল। পুলিশি বাধায় এই সমাবেশ তাৎক্ষণিক শহরতলির গৌরারং ইউনিয়নের রাধানগর পয়েন্টে করা হয় এবং ওখানেই তিনি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
সমাবেশের এক পর্যায়ে মো. শাজাহান সকলকে হাত তুলতে বলেন এবং হাত উঁচিয়ে রেখেই বলেন,‘দলীয় চেয়ারপার্সন আগামী নির্বাচনে যাকে প্রার্থী করবেন, তাঁর পক্ষেই সকলে থাকবেন কী-না? এসময় সকলেই বললেন আমরা থাকবো। তিনি এসময় বলেন,‘সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জ্যেষ্ঠ নেতা ফজলুল হক আছপিয়া এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন রয়েছেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল আছেন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী রয়েছেন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে আছেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তের অ্যাডভোকেট মাওলনা শাহীনুর পাশা চৌধুরী এর আগে জোটের নির্বাচন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘এই আসন নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করবো না।’
কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহানের এই বক্তব্যের পর থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে এটি-ই ছিল আলোচ্য বিষয়।
কেউ কেউ বলেছেন, এই আসনগুলোতে    
নির্বাচন করতে আগ্রহী অনেক নেতার নামই তিনি বলেননি। যেমন সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলের সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন, আরেক নেতা ডা. রফিক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুনসেফ আলী, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল লতিফ জেপি ও আবুল মুনসুর শওকতের নাম বলা হয়নি।
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন,‘দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি নির্বাচনী এলাকায় দুইজন করে এবং একটিতে এক জনের নামোল্লেখ করে বলেছেন, এর মধ্য থেকে যিনি-ই প্রার্থী হবেন, সকলকে তা মেনে নিতে হবে। তিনি শপথও করিয়েছেন। আমি তাঁর এই কথা অবশ্যই মেনে চলবো।’
সাবেক হুইপ বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন,‘দলীয় মনোনয়ন দেবার পর কেউ যাতে প্রার্থী’র বিরোধিতা না করে, সেজন্য তিনি এমন ওয়াদা করিয়েছেন। আমাদের সকলকেই এটি মেনে চলতে হবে।’
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও মধ্যনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন বলেন,‘সোমবার সকাল ৯ টায় দলীয় মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরায় বাসভবনে গিয়ে দেখা করেছি। আমার সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন ও বাদাঘাটের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন ছিলেন। মহাসচিব আমাকে বলেছেন-নির্বাচন করার জন্যই আপনাকে (নজির হোসেনকে) দলে সক্রিয় করা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত করবেন দলীয় চেয়ারপার্সন।’ নজির হোসেন জানান, পরে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নির্বাচনী এলাকার ৪ ইউনিটের সদস্য সংগ্রহের ফরম তুলে দেন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বেলাল হোসেন।
নজির হোসেন বললেন,‘সুনামগঞ্জের সমাবেশে দুই জনের নামোল্লেখ করার বিষয়ে আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের জিজ্ঞেস করেছি, তারা বলেছেন সমাবেশ মঞ্চে যারা ছিল, তাঁদেরকেই প্রতিজ্ঞা করানো হয়েছে এবং তাঁদেরই কেবল নাম বলা হয়েছে।’
ডা. রফিক চৌধুরী বললেন,‘দল বা দলীয় চেয়ারপার্সন এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেননি। সুনামগঞ্জের সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা মো. শাজাহান হয়তোবা কাউকে খুশি করার জন্য এটি বলেছেন।’

  • [১]