বারেকের টিলায় গর্ত খুঁড়াখুঁড়ি করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই পর্যটনস্পটটিকে মেরে ফেলা হচ্ছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, এক শ্রেণির পাথর সংগ্রহকারী বারেকের টিলায় গর্ত করে পাথর উত্তোলন করে । এর ফলে টিলাটি যেকোন সময় ধসে পড়ার সমূহ আশংকা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পর্যটকরা। মাত্রই কয়েকদিন আগে টাঙ্গুয়ার হাওরভিত্তিক পর্যটনসম্ভাবনাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে জ্যোৎ¯œা উৎসব নাম দিয়ে দুই দিনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। বারেকের টিলা টাঙ্গুয়ার হাওরভিত্তিক যে বিশাল পর্যটন এলাকা তারই একটি অংশ। পর্যটকরা বারেকের টিলা এলাকাকে ‘বাংলার কাশ্মির’ নাম দিয়েছেন। এখানে বছরজুরেই পর্যটকবৃন্দের সমাহার ঘটে। এখন যদি মূল বারেকের টিলায় ধস নামে তাহলে পর্যটন সম্ভাবনা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? আসলে আমরা মুখে এক ধরনের কথা বলি আর কাজ করি ঠিক উল্টো। পর্যটন বাণিজ্য বিস্তৃতির অর্থ শুধু এই নয় যে, হাওর এলাকায় হোটেল-মোটেল ও রাস্তা-ঘাট গড়ে তুললেই হবে। বরং এই বাণিজ্যকে টেকসই করে তুলতে হলে মূল পর্যটন স্পটগুলোর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে। মূল বৈশিষ্ট্য যখন হারিয়ে ফেলে তখন এর হতশ্রী চেহারা দেখানোর জন্য কোন হোটেল-মোটেলই ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করবে না। টাঙ্গুয়ায় পাখি দেখতে শীত মৌসুমে বহু পর্যটকের আগমন ঘটে। বহু পর্যটক আসেন হাওরের দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি দেখতে। কেউ আসেন এর হিজল-করচ বাগের মনোহর রূপ দেখতে। অনেকে দলে দলে আসেন সীমান্তঘেষা মেঘালয় পাহাড়ের নীল রূপে মোহিত হতে। এখন এই সব বৈশিষ্ট্য যদি হারিয়ে বসে তাহলে কি দামী মোটেলে ঘুমাতে আসবেন পর্যটকরা?
যারা আগ্রার তাজমহল দেখেছেন তাদের কাছ থেকে জানা যায়, তাজমহল দেখতে হলে বিশেষ ধরনের জীবানু প্রতিরোধক পোশাক পড়ে ভিতরে ঢুকতে হয়। ভিতরে পর্যটকরা কোন ছবি তুলতে পারেন না। তাজমহলের মূল কাঠামোর সামান্যতম ক্ষতি হতে পারে এমন সব ধরনের কাজ থেকে কঠোরভাবে বিরত রাখা হয় পর্যটকদের। পৃথিবীর সর্বত্রই বিশেষ পর্যটন এলাকায় এরকম নানা বিধি-নিষেধ রয়েছে। এইসব বিধি-নিষেধ মেনেই অসংখ্য পর্যটক সেইসব ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান। আর আমরা পর্যটনের নামে নিষেধের যাবতীয় বেড়াজাল ছিন্ন করে দিতে চাই। আমরা অবাধে যান্ত্রিক জলযান ঢুকতে দিয়ে মাছ ও পাখিদের ভয়ের কারণ হতে দিতে বিন্দুমাত্র শংকিত হই না। মূলত সুনমগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত এলাকাগুলোর জন্য কোন ধরনের পর্যটন নীতিমালাই প্রণীত হয়নি। তাই যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই পর্যটনের ‘বিকাশ’ ঘটাতে চাইছেন। এই ধরনের হঠকারিতা ত্যাগ করা এখন সময়ের দাবি মাত্র।
কয়লা, পাথর, বালু ও গাছ কাটার জন্য দেশের কিছু অসাধু ব্যক্তি টিলা কেটে সুরঙপথ তৈরি করে সীমান্তের ওপাড়ে চলে যাওয়ার লোকমুখে প্রচলিত গল্প বাস্তব নাকি অবাস্তব তা আমরা বলতে পারি না তবে টেকেরঘাট এলাকার প্রাকৃতিক গঠন যে অনেকটাই পরিবর্তিত হয়ে গেছে তা চোখের সামনে স্পষ্ট। । বারেকের টিলারও যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে আফসোসের শেষ থাকবে না। দয়া করে স্থানীয় পর্যটন উৎসাহী নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞ এবং পর্যটনাসংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কি এই পতন রোধ করতে দ্রুত এগিয়ে আসবেন?