তাহিরপুর প্রতিনিধি
তাহিরপুরে গোপনে বাল্য বিবাহের শিকার এক স্কুল ছাত্রী বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে এসেছে। মা-বাবা ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়েছেন এবং এখন প্রতিবেশীদের সামনে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর জন্য কয়েকদিন ধরে শারিরীক নির্যাতন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ শুক্রবার বিকালে কিশোরীকে নির্যাতন করে জোর করে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করলে প্রতিবেশীদের সামনে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে সে। বাল্য বিবাহের
শিকার ওই স্কুল ছাত্রী উপজেলার জয়নাল আবেদীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। সে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের মেয়ে।
জানা যায়, প্রায় মাস খানেক আগে এসএসসি পরীক্ষার্থী উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের এক দম্পতি তাদের কন্যার জন্ম নিবন্ধন গোপন করে পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আমড়িয়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের (২৯) নিকট বিয়ে দেন। কন্যাটির চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল কিন্ত বাল্য বিবাহের শেকলে বন্দি হওয়ায় তার আর ফরম ফিলাপ ও পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি। শুক্রবার বিকেলে জোর করে তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর জন্য তার মা তাকে কয়েক দফা মারপিট করে। এক পর্যায়ে সে স্বামীর বাড়ি যাবে না বলে দৌঁড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের নিকট সাহায্য চায়। পুলিশের সহায়তা চাইতে সে স্থানীয়দের অনুরোধ করে, কারো সহায়তা না পেলে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দেয়।
প্রতিবেশীরা জানায়, বিয়ের এক সপ্তাহ পরই স্বামীর বাড়ি থেকে সে পিতার বাড়িতে চলে আসে। এরপর স্বামীর বাড়িতে জোড় করে পাঠানোর জন্য প্রতিদিনই মা ও বাবা ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে মারপিট করে। গত কয়েকদিন ধরে মারপিট আর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে সে রাতে চাচার ঘরে আশ্রয় নেয়।
বাল্য বিয়ের শিকার ছাত্রীটি প্রতিবেশীর এক মুঠোফোনের সাহায্যে এ প্রতিবেদককে জানায়, আমার মা-বাবা আমাকে জোর করে স্বামীর বাড়িতে পাঠাতে চায়। আমি যেতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে প্রতিদিনই মারপিট করে। সে আরো জানায়, এ বিয়েতে তার মত ছিল না, তাকে জোর করেই বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে। সে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে, সে আবারো লেখাপড়া করতে চায়, তাকে জোর করে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠালে আত্মহত্যা করবে আর মৃত্যুর জন্য দায়ি থাকবে তার মা বাবা।’
মেয়েটির মা মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মারপিট করিনি, সামান্য শাষণ করেছি। দেখি বুঝাইয়া যদি জামাইর বাড়িতে আবার পাঠাইতে পারি।’
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘বিয়য়টির খোঁজ নিয়ে কিশোরীকে আইনী সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক, সন্তানের প্রতি মা-বাবার এমন আচরণ আইনের পরিপন্থি।’
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ ওই কিশোরীর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’