- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বাস্তবায়ন হয়নি ১৫ বছরেও

আকরাম উদ্দিন
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করণের বিষয়টি ১৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালের ৯ মে প্রশাসনিক পূর্ণবিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র (নিকার) ৮৬ তম বৈঠকে মধ্যনগর থানাকে উপজেলা হিসাবে উন্নীত করার অনুমোদন দেন। পরে বিএনপি শাসনামলে নিকারের ৮৮ তম সভায় এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়া হয়। মধ্যনগরবাসীর প্রাণের দাবি উপজেলা বাস্তবায়ন করার জন্য গত ১৮ ডিসেম্বর আবারো অতীতের নানা সিদ্ধান্তের কাগজপত্রসহ প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করা হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানায় ইউনিয়ন রয়েছে ৪ টি। এগুলো হচ্ছে- চামরদানী, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ, বংশীকুন্ডা উত্তর ও মধ্যনগর ইউনিয়ন। থানার আয়তন রয়েছে ২২০ কি.মি। লোকসংখ্যা রয়েছে ১,৪৫,৮২০ জন।
২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরের জন্য গত ১৮ ডিসেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান, থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রবীর বিজয় তালুকদার,  মধ্যনগর থানা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নৃপেন্দ্র চন্দ্র রায়, ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন এবং ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল হক স্বাক্ষরিত আবেদন প্রধানমন্ত্রী’র দপ্তরে পাঠানো হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘১৯৭৪ সালে জনগণের দুর্দশা লাঘবের জন্য ও আইনশৃংখলা উন্নয়নের নিমিত্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের প্রচেষ্টায় থানা গঠন করা হয়। মধ্যনগরকে থানায় উন্নীত করা হলেও সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন হয়নি।
ধর্মপাশা উপজেলার সাথে মধ্যনগর থানার জনগণের যোগাযোগ অত্যন্ত দুস্কর। হাওর-বাওর বেষ্টিত এলাকা মধ্যনগর। তৎক্ষণাৎ থানাবাসী আইনগত সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন না। জরুরি মুহুর্তে সরকারী প্রশাসনিক সুবিধা বা সেবা জনগণ নিতে পারেন না। অথচ মধ্যনগর থানা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে মধ্যনগর থানার গণমানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পূর্ণবিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন         
কমিটি (নিকার)’র ৮৬ তম বৈঠকে মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পরবর্তীতে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এসে  নিকারের ৮৮তম সভায় ঘোষিত মধ্যনগর  উপজেলা রূপান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়।
অথচ. উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী মধ্যনগর থানার বিভিন্ন জলমহাল থেকে প্রতিবছর রাজস্ব আয় ১ কোটি টাকার উপরে। প্রতিবছর মধ্যনগর বাজারের রাজস্ব আয় ৫০ লাখ টাকা, মহেষখলা বাজার থেকে ১১ লাখ টাকা। মধ্যনগর বাজারে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ লাখ মণ ধান ও চাল বেচাকেনা হয়। মধ্যনগরে ২টি খাদ্য গোদামে চলতি অর্থবছরে মজুত চালের পরিমাণ ১২৬ মেট্রিক টন, ধানের পরিমাণ ১৩৪৫ মেট্রিক টন। একটি খাদ্যগোদাম নির্মাণাধীন রয়েছে।
এলাকা কৃষিনির্ভরশীল। এখানে কুটির শিল্প, পশু সম্পদ রয়েছে। দেশের ২য় বৃহত্তম হাওর টাঙ্গুয়ার দুই-তৃতীয়াংশ মধ্যনগর থানায় অবস্থিত।
সম্ভাবনাময় এই থানার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। এ কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের আশানুরূপ প্রসার ঘটছে না। আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।  চার ইউনিয়নের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকেও বঞ্চিত।
আশংকাজনক রোগীকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথেই অনেক সময় মারা যায়। মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করতে এবং রাস্তঘাটের উন্নয়ন করার দাবি দীর্ঘদিনের।
অবহেলিত এই মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করতে সাবেক পররাস্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি ও সাবেক এমপি সৈয়দ রফিকুল হক সোহেল’র সুপারিশ করেছিলেন। বর্তমান স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনও মধ্যনগরকে উপজেলায় উন্নীতের চেষ্টা করছেন।  
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মধ্যনগর উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তিনিও উপজেলা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্থ করেছিলেন। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপিও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করতে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়টি অবগত করেন মধ্যনগর থানা উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তর না করায় এবং সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন না করায় হতাশ হয়ে পড়েছেন মধ্যনগরবাসী।
সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুন নাহার বেগম (শাহানা রব্বানী) গত ২৫ নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দেয়া লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, ‘২০০১ সালের ৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পূর্ণবিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর ৮৬তম বৈঠকে মধ্যনগর থানাকে উপজেলা হিসাবে উন্নীতকরণ হয়। পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত জোট সরকার নিকারের ৮৮তম সভায় ঘোষিত মধ্যনগর উপজেলা বাতিল করে দেয়। তিনি পুনরায় মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরের দাবি জানিয়ে আধাসরকারি পত্র দেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন,‘এই বিষয়ে আমরা অফিসিয়েলি কোন চিঠিপত্র এখনো পাইনি। আমরা এই বিষয়ে নিকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফলোআপ জানার চেষ্টা করবো’।

  • [১]