বিআরটিএ’র বিভিন্ন ফিস জমা দিতে ব্যাংকে আগত গ্রাহকদের বিড়ম্বনার খবর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একাধিকবার প্রকাশিত হলেও টাকা জমা দানের পদ্ধতি সহজিকরণ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি সড়ক নিরাপত্তা আইন পাস ও কার্যকর হওয়ার পর সকল ধরনের যানবাহনের মালিক-চালকরা রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নতুন করে করতে অথবা হালনাগাদ নবায়ন করতে বিআরটিএ অফিসে ভিড় করছেন। এইসব কাজের জন্য নির্দিষ্ট হারে সরকারি ফি জমা দিতে হয়। বিআরটিএ’র এসব ফিস এই জেলা শহরে কেবলমাত্র মার্কেন্টাইল ব্যাংকে জমা করা যায়। অন্য কোনো ব্যাংককে বিআরটিএ এই দায়িত্ব প্রদান করেনি। ফলে বিআরটিএ’র সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সামনে। কাকডাকা লোর থেকেই লোকজন লাইনে এসে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু দিনশেষে এদের অনেকেই টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হন। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বিআরটিএ’র সেবাগ্রহীতাদের টাকা জমা দেয়ার দুর্দশা ও বিড়ম্বনার যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে কয়েকজন ব্যক্তির উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে এরা পরপর কয়েকদিন লাইনে দাঁড়িয়েও টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। মার্কেন্টাইল ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, একদিনে তারা মাত্র ৫০ জনের টাকা জমা নিতে পারেন। এক জনের টাকা জমা দিতেই নাকি ১০ মিনিট সময় লেগে যায়। এই অবস্থায় মানুষের মধ্যে যানবাহনের কাগজপত্র হালনাগাদ করার যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে সেটি ভাটা পড়বে বলে আমরা মনে করি। বিআরটিএ’র জানা থাকার কথা নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নের পর কাগজপত্র তৈরির ভিড় লেগে যাবে। আগে না জানুক, গত কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতায় তো নিশ্চয়ই তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই ভিড় সামাল দেয়ার জন্য তারা কোনো পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেনি।
বিশেষ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা রাখাটা উন্নত ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্য। এখন একটি ব্যাংক বিআরটিএ’র ফিস জমা নিচ্ছে। কিন্তু একটু উদ্যোগ নিলেই অন্তত কিছু দিনের জন্য এই দায়িত্ব কয়েকটি ব্যাংককে ভাগ করে দেয়া যেত। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা যেত। এখন ভর্তি কিংবা চাকুরির আবেদন ও ফিস অনলাইনে সহজেই করা যায়। যে কেউ নিজের মোবাইল ফোন দিয়েই এ কাজটি সারতে পারেন। বিআরটিএও সহজেই এই কাজটি করতে পারত। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফিস জমা দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে মানুষের এত ভোগান্তি হত না। বিআরটিএ দেশের ডিজিটাল উন্নয়নের সুফল গ্রহণ করতে দৃশ্যতই ব্যর্থ হয়েছে। সম্ভবত এখন মার্কেন্টাইল ব্যাংক একটি কাউন্টারের মাধ্যমে বিআরটিএ’র ফিস জমা নিচ্ছে। বিআরটিএ সমন্বয় করে আপাতত কিছু দিনের জন্য নিদেন পক্ষে ব্যাংকের কাউন্টার সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে পারতেন।
সরকার ও দেশের মানুষ সকলেই চান সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। শৃঙ্খল আনার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো যানবাহন ও চালকের সঠিক ও বৈধ কাগজপত্র। সরকার চাচ্ছে সকলেই কাগজপত্র হালনাগাদ করে নিক। এজন্য কথিত সড়ক আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সরকার হিট এন্ড কোল্ড নীতিতে অগ্রসর হচ্ছে। বিআরটিএ এই জায়গায় সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা যদি সাবেকি ধ্যান-ধারণা নিয়ে বসে থাকে তাহলে জনগণের কাক্সিক্ষত প্রত্যাশার জায়গাটি ব্যাহত হতে বাধ্য। আমরা আশা করব, শীঘ্রই বিআরটিএ এই জায়গায় ব্যবস্থাপনাগত উন্নয়ন ঘটাবেন। মনে রাখতে হবে কাগজ করতে আসা ব্যক্তিরা যত বেশি দুর্ভোগের শিকার হবেন তত তারা বৈধ উপায়গুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে অবৈধ পন্থার দিকে ঝুঁকে পড়বেন। মানুষকে কখনও এমন অবস্থায় পতিত করা চলবে না। তাই বিআরটিএ’র সেবা দানের প্রতিটি জায়গায় আমরা আরও গতিশীলতা ও সেবাপরায়ণ মনোভাব দেখতে আগ্রহী।