- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিউবোর অংশবিশেষ বেসরকারি করণের প্রক্রিয়া বন্ধ করুন

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলকে নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি: এর নিকট হস্তান্তরের প্রতিবাদে রবিবার সুনামগঞ্জে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকগণ। সরকারি ব্যবস্থাধীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড গত কয়েক দশকে বহু কর্মএলাকা হাতছাড়া করেছে। মূলত সর্বত্র বেসরকারিকরণের যে ঢেউ আমাদের দেশে আঁচড়ে পড়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন সরকারি সেক্টরকে গণহারে বেসরকারিকরণ করা হয়েছে। অনেকগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে শুকিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আদর্শিক কিংবা অর্থনৈতিক দর্শনের জায়গা থেকে বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়, বেসরকারিকরণের এই প্রক্রিয়া জনগণের কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সুকৌশলে সেই অসন্তোষকে ব্যবহার করে বেসরকারিকরণের পাগলা ঘোড়াকে লাগাম ছেড়ে দৌঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মূলত উচিৎ কাজ ছিল, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরাজমান দুর্নীতির মূলোৎপাটনের মাধ্যমে এগুলোকে আরও গণস্বার্থ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র সেই পথে না গিয়ে মূলোচ্ছেদের ব্যবস্থা করে চলেছেন।
বিদ্যুৎ সেক্টর একটি অতি স্পর্শকাতর জায়গা। দেশের উৎপাদন ও অর্থনীতিকে সচল রাখার অন্যতম উপকরণ। মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ এটি। এধরনের জাতীয়ভাবে অপরিহার্য বিষয়কে একচেটিয়াভাবে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়। কারণ এর মধ্য দিয়ে দেশের উৎপাদন ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখার বিষয়টি অন্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। এর পরিণতি একসময়ে ভয়াবহ হতে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলকে একটি বেসরকারি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বুঝা যায় বিউবো’র অন্য এলাকাগুলোও হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম। এটি বুঝেই বিউবো কর্মকর্তা-শ্রমিক-কর্মচারিরা এখন রাজপথে নেমে প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করেছেন। তবে তাদেরকে বহু আগে থেকেই বিষয়টি বুঝা এবং বুঝে প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর ও গতিশীল হিসাবে গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু দুর্নীতির বিশাল গর্তে ঢুকে যাওয়ায় তারা বুঝতেই পারেননি তারা কখন এতটা অপাঙক্তেয় হয়ে উঠেছেন। কথায় বলে সময়ের এক ফোড় অসময়ের দশ ফোড়েই চেয়ে বেশি উপকারী। এখন যদি জনমত যাচাই করা হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই মানুষের মনোভাব বিউবোর বিরুদ্ধে যাবে। তারপরও আমরা বিউবো নামক সরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত বিরোধিতা করি।  আমরা মনে করি মাথা ব্যথা সারাতে মাথা কেটে ফেলা নয় চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম আরেক দফা বাড়ানোর সক্রিয়া চিন্তা শুরু হয়েছে সরকারিভাবে। এখন প্রতিবছর একাধিকবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো না গেলে যেন ইজ্জত থাকে না এমন অবস্থা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে সীমিত আয়ের মানুষসহ নি¤œবিত্তরা প্রচ- ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। যখন পুরো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা বেসরকারি মালিকানায় চলে যাবে তখন দাম বাড়ানোর এই উর্দ্ধারোহণ কোথায় গিয়ে উঠবে ভাবলে পিলে চমকে যাওয়ার উপক্রম হয়। তাই সরকারের নিকট আমরা আবেদন জানাই, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অংশবিশেষ বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেওয়ার আগে জনগণের স্বার্থের দিকটা বিবেচনা করুন। একই সাথে দুর্নীতিগ্রস্ত বিউবোকে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছ, গতিশীল ও দক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলুন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একটি সক্ষম জাতীয় প্রতিষ্ঠান থাকলে প্রতিযোগিতা বজায় থাকার পাশাপাশি একাধিপত্য তৈরির সম্ভাবনা দূরে থাকবে। বিউবোর্ডের সকলকেও সেই লক্ষে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে এখন থেকেই সেবার মান উন্নয়নে নিয়োজিত থাকতে হবে।  

  • [১]