- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিএনপির দুই গ্রুপকে নিয়ে সিলেটে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিনভর বৈঠক- নালিশ ছিল দু’পক্ষেরই

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ বিএনপি’র বিবদমান দুই গ্রুপই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে একে-অপরের বিরুদ্ধে নালিশ জানালেন। সিলেটে বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা রোববার দিনভর সুনামগঞ্জ বিএনপি’র দুই গ্রুপকে নিয়ে বৈঠক করেন। কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিমের সিলেট শহরের লামাবাজারের বাসভবনে রোববার সকাল ১১ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত এই বৈঠক হয়। প্রথম দফায় সকাল ১১ টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জেলা বিএনপি’র একাংশের সঙ্গে (ফজলুল হক আসপিয়া সমর্থক অংশ) বৈঠক হয়। পরে বিকাল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াৎ হাসান জীবন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, সাবেক হুইপ ফজলুল হক আছপিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
বেলা আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত বৈঠকে নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র সমর্থকদের মধ্যে- সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ধর্মপাশা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মোতালেব খান, শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাল্লা বিএনপির সভাপতি মনিন্দ্র তালুকদার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ, জামালগঞ্জ বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি, বিশ্বম্ভরপুর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাড. আব্দুল হক, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আতম মিসবাহ্, শাল্লা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন, দলীয় নেতা নজরুল ইসলাম, মধ্যনগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সবুজ মিয়া, যুবদলের যুগ্ম  আহ্বায়ক সবুজ মিয়া, ছাতক পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ তিতুমির, সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর আলম, মোনাজ্জির আহমদ এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন খান ময়না উপস্থিত ছিলেন।
অপরাংশের নেতাদের মধ্যে ওয়াকিপুর রহমান গিলমান, আকবর হোসেন, অ্যাড. আবুল মাজাদ, অ্যাড. মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল, নাদীর আহমদ, রেজাউল হক, আবুল মুনসুর শওকত, সাইফুল হাসন জুনেদ, নাসিম উদ্দিন লালা, সুয়েব আহমদ, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনছার উদ্দিন, যুগ্মআহ্বায়ক এটিএম হেলাল ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, আলাদা আলাদা বৈঠকে একাংশের নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেন,‘জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি জেলার ১৪ টি ইউনিটে এক তরফাভাবে কমিটি করেছেন। কমিটিতে দলছুট, সুবিধাবাদীরা স্থান পেয়েছে, ত্যাগীরা বাদ পড়েছেন।’ এরা এই ১৪ ইউনিটে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করে সম্মেলন করে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিটি করার দাবি জানান।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থকরা কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেন,‘দলীয় চেয়ারপার্সনের করা আহ্বায়ক কমিটিকে অব্যাহতি দিয়ে সুনামগঞ্জে ওয়াকিপুর রহমান গিলমানকে আহ্বায়ক ও নুরুল ইসলাম নুরুলকে প্রথম সদস্য ঘোষণা দিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা এই বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিলেন জানতে চায় তৃণমূলের কর্মীরা।’ এছাড়া এই অংশের নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃতের¡ ঘোষণা করা জেলা সম্মেলনও ( ১৯ নভেম্বর) অপরাংশের নেতারা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বলে অবহিত করেন।
সুনামগঞ্জ বিএনপির দুই পক্ষের বৈঠক প্রসঙ্গে ডা. সাখাওয়াৎ হাসান জীবন বলেন,‘বিএনপি বড় দল, অনেকেরই পছন্দ, অপছন্দ রয়েছে। দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে যারা আন্দোলন সংগ্রামে ছিল, আছে এদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্যই বৈঠকের এই প্রক্রিয়া। আরো বৈঠক হবে। যাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তারাও কেউ কাউকে বাদ দিয়ে দল করতে চান না। আমরা সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। এই বৈঠকের আলোচনা কেন্দ্রীয় উর্ধ্বতনদের অবহিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে’।

  • [১]