- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিএনপির বৃহৎ কেন্দ্রীয় কমিটি জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখুক

প্রায় ৬ শ’ ব্যক্তিকে বিভিন্ন পদ-পদবি দিয়ে ঘোষিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি সংগঠনটিকে মাথাভারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে নাকি এর মধ্য দিয়ে সংগঠনটি আরও গতিশীল হবে তা নিয়ে সামনের দিনে অনেক আলাপ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত একে স্বাস্থ্যপ্রদ রাজনীতির বহিপ্রকাশ হিসাবে মানতে নারাজ হবেন অধিকাংশ বিশ্লেষকই। তবে সুনামগঞ্জবাসী হিসাবে আমরা এই কমিটিতে আমাদের পাঁচ জন অভিজ্ঞ নেতার পদ প্রাপ্তিতে আনন্দিত। জেলা থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া জেলার পাঁচ নেতা হলেন, উপদেষ্টা হিসাবে জনাব ফজলুল হক আছপিয়া, সহ: স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে ডা. রফিক চৌধুরী, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও মিজানুর রশীদ চৌধুরী। এই পাঁচ নেত্ইা জেলায় বিএনপির রাজনীতির বিকাশে প্রভূত অবদান রেখেছেন। দল তাঁদের কর্মকা-ের মূল্যায়ন করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। আমরা এই পাঁচ নেতাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বিএনপির গত জাতীয় সম্মেলনে ‘এক নেতার এক পদ’ এই নীতি অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ধরে নেয়া যায় কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া এই পাঁচ নেতা জেলা কমিটির কোন পদে আসবেন না। সুতরাং জেলা কমিটির মূল পদ-পদবির জন্য এখন যে নানামুখী মেরুকরণ শুরু হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে পাঁচ নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন তাঁদেরকে ঘিরেই এতোদিন জেলার বিএনপি রাজনীতির একাধিক বলয় তৈরি হয়েছিলো। জেলার পৃথক বলয় ভেঙ্গে সংগঠনকে এক ধারায় নিয়ে আসতেই সম্ভবত কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাঁদেরকে অন্তর্ভূক্ত করা অন্যতম একটি কারণ। কিন্তু আমাদের ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দলগুলোর যে বৈশিষ্ট্য এখন বিরাজমান তাতে বলয় ভাঙ্গার আকাক্সক্ষা কতটুকো বাস্তবায়িত হবে তা বলা মুশকিল। এখন হয়তো উপরোক্ত নেতাদের বাদ দিয়ে অন্যদেরকে কেন্দ্র করে বলয় তৈরি হবে। যদি এমনই হয় তাহলে বিএনপির বিশাল কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের স্বার্থকতা প্রথমেই ধাক্কা খাবে।
প্রধান দলগুলোর সাংগঠনিক কর্মকা-ে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা, গণতান্ত্রিক অনুশীলনের চর্চা রুদ্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। কমিটি গঠন, পদ বণ্টন বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনুপস্থিতিই বেশি চোখে পড়ে। এমতাবস্থায় কমিটির আকার ছোট কিংবা বড় যাই হোক না কেন গণতান্ত্রিক চর্চার বিকাশে সেই কমিটি যে আশানুরুপ ভূমিকা রাখতে পারবে না তা বলাই বাহুল্য। জনগণ কামনা করেন দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক অনুশীলন দৃঢ়মূল হোক। তাহলে দলের বাইরে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও গণতান্ত্রিক চর্চার বিস্তৃতি ঘটবে। জনগণের এমন মহান আকাক্সক্ষা বড় দলগুলো কবে আত্মস্থ করবেন, এখনকার অবস্থা দেখে তা বলা সম্ভব নয়। তবে দলের ভিতরে এবং জনগণের মধ্যে এমন আকাক্সক্ষা যত প্রবল হবে তত দ্রুত দলগুলো নিজেদেরকে গণতান্ত্রিক চর্চায় ফিরিয়ে আনবে, এটি বলা যেতে পারে।
দেশ এখন এক বিশেষ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে চরম হুমকি জঙ্গিবাদ আমাদের দেশেও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সারা দেশ আজ এই হুমকি মোকাবিলায় যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াও দলের জঙ্গিবিরোধী অবস্থান পরিষ্কার করে এর বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি বেগম খালেদা জিয়ার এই ঘোষণা বাস্তবায়ন তথা মাঠ পর্যায়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচীকে আরও বেগবান করে দেশকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। এতে সংগঠন বিকশিত হবে, দেশ তথা জনগণ আতংকজনক পরিবেশ থেকে রক্ষা পাবে, সর্বোপরি জনগণের জন্যই যে রাজনীতি-সেটিও প্রমাণিত হবে।

  • [১]