মতিয়ার চৌধুরী লন্ডন
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে একটি মহল দেশে বিদেশে অপব্যাখা করছে, এতে বিভ্রান্ত হবার কোন কারণ নেই লন্ডনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা একথা বলেন।
তারা বলেন, একটি মহল ইস্যু খুঁজছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন সরকার কারো নাগরিকত্ব কেড়ে নিবেনা বা কারো সম্পদ ও হারানোর কোন সুযোগ নেই। বরং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নাগরিকত্ব দেবার প্রস্থাব করা হয়েছে এই আইনে, তবে যারা দ্বৈত নাগকির তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। দলীয় কোন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না বা সাংবিধানিক কোন পদে অধিষ্টিত হতে পারবে না। তা করতে হলে একটি ত্যাগ করতে হবে। এ নিয়ে একটি মহল দেশে বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
গত ২০ জুলাই লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্রে উত্তর দিচ্ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম বলেন বিএনপি‘র মিথ্যা বানানোর মেশিন আছে গতকাল ২০জুলাই লন্ডস্থ বাংলাদেশ মিশনে লন্ডনের বাংলামিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি একথা করেন।
তিনি বলেন বিএনপি মিথ্যাচারে পারদর্শী একটি দল। এইচ.টি.ইমাম লন্ডনে হাউজ অব কমন্সে বাংলাদেশ বিষয়ক সেমিনারের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবগত করতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন। তিনি বলেন বিএনপি লবিষ্ট নিয়োগের মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু বৃটেনের সাথে আমাদের বহুমাতৃক সম্পর্ক রয়েছে এই সেমিনারে যোগদানের মাধ্যমে আমরা আমাদের কথা গুলো তুলে ধরতেই গেল আট বছর যাবত এই সেমিনারে অংশ গ্রহণ করে আসছি। নতুবা বিএনপি একতরফা মিথ্যাচার চালিয়ে যাবে। প্রতি বছর সেমিনার আয়োজন কারীরা ক্ষমতাসীন এবং বিরুধীদলকে আমন্ত্রন জানিয়ে থাকেন এবছরও তারা আমাদের এবং বৈধ প্রধান বিরুধীদল জাতীয়পার্টি এবং বিএনপিকে আমন্ত্রন জানিয়েছেন। আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি।
তিনি বলেন সেমিনারে আগত ডেলিগেটদের সকলে বক্তব্য দিতে পারেননি। এইচ.টি. ইমাম বলেন বাংলাদেশে সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন জঙ্গিবাদ নির্মুলে সরকার জিরো টলারেন্সে বিশ্বাসী জঙ্গি দমনে সকলের সহযোগীতার প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশই বাংলাদেশকে জঙ্গিদমনে সহায়তা করতে আগ্রহী।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যরিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
তিনি বলেন, বিএনপি ঘুরে ফিরে একই কথা বলতে চায়-বারবারই তাদের বক্তব্যে দুটি বিষয় উঠে আসছে মধ্যবর্তি নির্বাচন এবং কেয়ার টেকার সরকার পদ্ধতি। আমি সেমিনারে পরিস্কার করে বলেছি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে কেয়ার টেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে এবং এটি সংবিধান স্বীকৃত সুতরাং সংবিধানের বাইরে কারো যাবার সুযোগ নেই। কেউই যেতে পারবেনা, বেগম খালেদা জিয়া বলছেন মধ্যবর্তি নির্বচান হলে দেশে আর জঙ্গিবাদ থাকবেনা, জঙ্গিবাদের সাথে নির্বাচনের কোন সম্পর্ক নেই জঙ্গিবাদ এখন বিশ্বের প্রতিটি দেশে। আর কোন দেশে তো কেউ এমন কথা বলছেনা। তিনি বলেন নির্বাচন দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের নয় নির্বাচন কমিশনের।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান মন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, দেশে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে হ্রাস পেয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার। একদিকে বিশ্বমন্দা ,অন্যদিকে দেশের ভেতর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ ষঢ়যন্ত্র সব কিছুকে উপেক্ষা করে দেশে গ্রোথ এখন ৫.৭% মানুষের মাথা পিছু আয় ১,৪৬৬ ডলার। এটি শেখ হাসিনার সরকারে সবচেয়ে বড় অর্জন।
মন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বিএনপি লবিষ্ট নিয়োগ করছে এই লবিষ্টরা তাদের দায়িত্বের বাইরে এমনসব বিষয় প্রচার করছেন যার জন্যে একটি দেশ এবং জাতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আমার বিশ্বাস তারা এব্যাপারে আরো সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
তিনি বলেন, আমরা পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিয়েছি ভবিষ্যতে যদি এই সেমিনারে জামাতের কেউ উপস্থিত থাকে তাহলে আমরা সেমিনারে অংশ নেবানা। যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল বাংলাদেশের জামাতকে একটি সন্ত্রাসী দলহিসেবে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং টেররিষ্টদের সাথে আওয়ামীলীগ একই টেবিলে বসতে পারেনা। এই সেনিারে জামাতের একজন প্রতিনিধি প্রশ্ন-উত্তরের সুযোগে ফ্লোর নিয়ে কথা বলতে চাইলে আয়োজকরা তাকে বের করে দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারানা হালিম বলেন, প্রযুক্তির যেমন সুফল আছে, আছে তার নেতিবাচক দিকও তা নির্ভর করে ব্যবহারের উপর।
তিনি বলেন বিশেষ করে বৃটেন এবং মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন ফেইক আইডির মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং সরকার সম্পর্কে অপপ্রচার চালানো হয় এসব আমাদের নজরে আছে।