- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে সরব আলোচনা- সংস্কারপন্থী নজির হোসেন ফিরছেন বিএনপিতে

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ওয়ান-ইলেভেনের সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতা নজির হোসেনকে শীঘ্রই ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিএনপিতে। শনিবার বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সংস্কারপন্থীদের বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এমন সংবাদ ছাপা হবার পর নজির হোসেনের সমর্থক ও বিএনপি’র রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে এটিই ছিল প্রধান আলোচনার বিষয়। নজির হোসেন এই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন,‘দেশ এবং দলের প্রয়োজনে বিএনপি চেয়ারপার্সন জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।’
এক সময়ের ডাকসাইটে বাম নেতা, সুনামগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক নজির হোসেন ১৯৯১ সালে ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মেয়াদের শেষ সময়ে সিপিবির ভাঙনের পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। অনেকে সিপিবি ভাঙনের কারিগরদের অন্যতম নজির হোসেনকেও বলে থাকেন। বিএনপিতে যোগদান করে নজির হোসেন দলের নীতি নির্ধারক বিশেষ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত হন। এক পর্যায়ে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতিও হন নজির হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের পট পরিবর্তনের সময় তিনি সংস্কারপন্থী কেন্দ্রীয় নেতার পরিচিতি লাভ করেন। গণ-মাধ্যমে বিএনপি’র প্রয়াত মহাসচিব মান্নান ভুইয়ার পাশে দেখা যেত নজির হোসেনকেও। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বেকায়দায় পড়েন এই      
তাত্ত্বিক রাজনীতিক। বিএনপি’র জেলা কমিটি থেকেও বাদ পড়েন তিনি। ২০০৮’এর জাতীয় নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা ও তাহিরপুর) ও সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর উত্তর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জামানত হারিয়ে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন নজির হোসেন।
বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে এই রাজনীতিক আবার সক্রিয় হন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের ধর্মপাশা, জামালগঞ্জে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং তাহিরপুর উপজেলায় বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় হয়। এই তিনজনেই নজির হোসেনের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত। এরপর থেকে নজির হোসেন বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হবার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের বাধা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমা-ও তাঁকে স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত করিয়ে না দেওয়ায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হবার সুযোগ পাননি নজির হোসেন।
শনিবার নজির হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে মহাসচিব যোগাযোগ রাখছেন। দলীয় ঐক্য এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্য এখন জরুরি। এই ঐক্য যত দ্রুত শক্তিশালী হবে বিএনপি আন্দোলন এবং নির্বাচনের জন্য তত তাড়াতাড়ি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে। আমি দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানাই তিনি পর্যায়ক্রমে আমরা যারা নিস্ক্রিয় রয়েছি, তাদেরকে দলে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়ে জাতির সামনে বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী শক্তির সামনে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকেই বেগম জিয়ার নির্দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মকা-ে যুক্ত থেকেছি। তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার থাকতে চাই।’
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘দলকে সংগঠিত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের নিস্ক্রিয়দের সক্রিয় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দলীয় চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা কাজ করছেন। সারা দেশের সুনামগঞ্জের নেতাদেরও সক্রিয় করার কাজ হচ্ছে।’

  • [১]