স্টাফ রিপোর্টার
আইনজীবী পরিবর্তনের জের ধরে বিচারপ্রার্থীকে মারধরের ঘটনায় এক আইজীবীকে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। বহিস্কৃত আইনজীবী হলেন তৌহিদ আহমদ চৌধুরী দবির। একই ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন আরেক আইনজীবী জুনেদ আহমদ। তবে তাঁকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলার আইনজীবী পরিবর্তন করার জের ধরে ওই দুই আইনজীবীর হাতে মারধরের শিকার হয়েছিলেন বিচার প্রার্থী (নারী শিশু মামলার আসামী) মজিবুর রহমান (৪০)। জেলা আইনজীবী সমিতির তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় একজনকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয় ও একজনকে সতর্ক করে দেয়া হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, লাঞ্ছনার শিকার বিচার প্রার্থী মজিবুর রহমান জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি একটি জিআর মামলার আসামী। বেশ কিছুদিন তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছিলেন আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী দবির ও জুনেদ আহমেদ। গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে ঐ মামলা নারী শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হলে মজিবুর রহমান আইনজীবী পরিবর্তন করেন। তিনি নতুন করে অ্যাড. আবুল আজাদ রুমানকে আইনজীবী নিয়োগ করেন। এ ঘটনায় ২৯ জানুয়ারি রোববার দুপুরে আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী ও জুনেদ আহমেদ বিচার প্রার্থী মজিবুর রহমানের কাছে আইনজীবী পরিবর্তনের কারণ জানতে চান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের ভেতরে মজিবুর রহমানকে মারধর করেন আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী ও জুনেদ আহমেদ। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মারধরের শিকার মজিবুর রহমান।
ঘটনার দিনে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের কাছে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী দবির ও জুনেদ আহমেদ। আইনজীবী তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী দবির দাবি করেছিলেন, বিচারপ্রার্থীকে ফুঁসলিয়ে মামলা নেয়া নেয়া হয়েছিল। এনিয়ে বিচার প্রার্থী মজিুবর রহমানের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছিল মাত্র, কোন ধরনের মারধর হয়নি।
দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতি অ্যাড. শফিকুল আলমকে আহবায়ক এবং অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন আহমেদ সোহেল ও অ্যাড. মোহাম্মদ মানিককে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিচারপ্রার্থীকে মারধরের সত্যতা পান তদন্ত কমিটি। অ্যাড. জুনেদ আহমদ ওই দিনের ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাপ্রার্থী হলে শাস্তি থেকে রেহাই পান। তৌহিদ আহমদ চৌধুরী দবিরকে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল হক বলেন,‘মজিবুর রহমান নামের এক বিচার প্রার্থী দুইজন আইনজীবীর হাতে মারধরের শিকার হয়েছিলেন। এঘটনায় তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তদন্তে ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। একজন দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। অন্যজন ক্ষমা না চাওয়ায় স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, আইনজীবীর হাতে বিচারপ্রার্থীকে লাঞ্ছিত হওয়ায় ঘটনায় গত ৩০ জানুয়ারি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ‘আইনজীবী পরিবর্তনের জের, বিচার প্রার্থীকে মারধর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল।