- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিজ্ঞান শিক্ষা ভাবনা

সুভাস চন্দ্র দাস
৮ম শ্রেণি পাশ করার পর একজন শিক্ষার্থী স্বাভাবিক ভাবেই ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হলো। অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগলো তার সন্তানটিকে কোন বিভাগে(বিজ্ঞান, মানবিক,ব্যবসায়)পড়াবেন কিংবা শিশুটি কোন বিভাগ নিয়ে পড়তে চায়। অনেক ক্ষেত্রে ভাল ফলাফলের ভিত্তিতেই শিশুটির বিকাশের মানদন্ড নির্ধারিত হয়। সে যদি জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ পাঁচ, চার বা তার কাছাকাছি গ্রেড পায় তাহলে বিজ্ঞান পড়তে সবাই (শিক্ষক, অভিভাবক, আত্মীয়, প্রতিবেশি) উৎসাহ যোগান। যদি জেএসসি তে কাঙ্খিত ফলাফল না হয় তবে শিশুটির ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার সুযোগ ঘটে না (শহরের নামকরা স্কুলের ক্ষেত্রে)। উল্টোদিকে গ্রামের শিক্ষার্থীরা  বিজ্ঞান বিষয়ে পড়তেই আগ্রহ দেখায় না অথবা অভিভাবকবৃন্দও এ বিষয়ে সচেতন নন। অনেক অভিভাবক মনে করেন বিজ্ঞান শিক্ষায় প্রচুর টাকা-পয়সা খরচ করতে হয়। এ ভুল ধারণাগুলো নিরসনের জন্য প্রয়োজন সচেতনতা।
আঠারো শতকের কবি ভারত চন্দ্র রায় গুণাকর রচিত ‘আমার সন্তান’ কবিতায় উপলব্ধি ছিল এই যে- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলার জন্য সন্তানের নৈতিক সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়ে মিলেই। তাহলেই বর্তমান প্রজন্মের দুধ-ভাত প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা পাওয়া যেতে পারে।
সুশিক্ষা মানেই বিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠ মুখস্থ করার মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষা বা স্কুল পরীক্ষাগুলোতে ভাল ফলাফল তৈরী করা নয় বরং পাঠ্য বিষয়ের সাথে নৈতিক গুনের সমন্বয় সাধন করা। একজন শিক্ষার্থী এই উভয় সিলেবাস পরিপূর্ণভাবে সম্পাদন করলেই জীবনের উন্নতির সোপানে পদচারণা সহজতর হয়ে যাবে।
বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ তৈরীর প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীর মানদন্ড কিভাবে নির্ধারিত হবে তার কোন ব্যাখ্যা শিক্ষাবিজ্ঞানে নেই। তবে বিদ্যালয় কর্তৃক মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের মানদন্ড নির্ধারিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা(জেএসসি)র ফলাফল।  যে সকল শিক্ষার্থী ঐ কাঙ্খিত মানদন্ডটি অর্জন করতে পারবে সেই শুধু বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাবে।
বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর সক্ষমতা তৈরীতে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই। শিশুর মননশীলতা বিকাশে ও শিক্ষার  পরিপূর্ণতা আনয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এই ত্রৈধ বিন্দুর মিলনেই একটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ দিনগুলি সোনালী হবে। রাষ্ট্র,সমাজ প্রকৃত নাগরিক পেয়ে সুশীল সমাজ বিনির্মাণ করতে পারবে। নতুবা অদক্ষ নাগরিক নিয়ে বোঝা বহন করতে করতে এক সময় পঙ্গুত্ব বরণ করতে হবে অভিভাবক,সমাজ এবং রাষ্ট্রকে।
শিক্ষাবিদগণের মতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত শিক্ষায় অগ্রসরতাই হলো উন্নয়নের পূর্বশর্ত। বিগত দশক পর্যন্ত যেকোনো কাজের জন্য কিছু ছকবাঁধা নিয়ম কৌশল ছিল। এখন প্রযুক্তির প্রভাবে অফিস-আদালতের এমনকি দৈনন্দিন জীবন-যাপন সংক্রান্ত কাজ কর্মের নিয়মনীতিও নাটকীয়ভাবে বদলে যাচ্ছে, ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রযুক্তির নির্ভরতা। বিশ্বজুড়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞান প্রযুক্তির নতুনমাত্রা সৃষ্টি করেছে । একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের কর্তব্য এ বিষয়ে সজাগ হওয়া। দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান পাঠে আগ্রহী ও উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে আজকের শিশুর সুন্দর ও সফল জীবন নিশ্চিত করা।  
লেখক: সহকারি শিক্ষক, সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

  • [১]