ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম থেকে ‘২ নং’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘ধর্মপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামকরণের দাবি উঠেছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আবেদন জানিয়েছেন।
ধর্মপাশা উপজেলা সদরের থানা রোডে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টি ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৮০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজমুল হায়দারের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি অনুকরণীয় বিদ্যাপীঠ হিসেবে উপজেলায় স্বীকৃতি লাভ করেছে। বিদ্যালয়টিতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সহ-পাঠ্যক্রম কার্যক্রমেরও ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষ করে তুলতে গড়ে তোলা হয়েছে ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, সংগীত শিক্ষা দিতে সংগীত ক্লাব ও কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞান প্রদানের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে কম্পিউটার ল্যাব। কিন্তু বিদ্যালয়ের নামের মধ্যে ক্রমিক সংখ্যা ‘২নং’ শব্দটি শুনেই যেন বিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন অনেকেই। ফলে বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার বিত্তবান বা অভিভাবকেরা এ বিদ্যালয়কে উপেক্ষা করে অন্য বিদ্যালয় বা কিন্ডারগার্টেনে তাদের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতে আগ্রহ বোধ করেন। এবারই প্রথম এ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকে শতভাগ শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। গত ৫ মার্চ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এনামুল হক বিদ্যালয়ের নাম থেকে ‘২নং’ শব্দটি বাদ দেওয়ার দাবি তুলেন। পরে গত ১৯ মার্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি এ সংক্রান্ত এক জরুরি সভা করে। সভায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল আজিজ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিদ্যালয়ের নাম থেকে ‘২নং’ শব্দটি বাদ দেওয়ার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য প্রধান শিক্ষককে বলা হয়। প্রধান শিক্ষক ওইদিনই বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান।
অভিভাবক শান্তনা রাণী সিংহ বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে। অথচ ‘২নং’ শব্দটির কারণে অনেকের কাছে তা ২ নম্বর বিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত। যা দুঃখজনক।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজমুল হায়দার বলেন, ‘বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ‘২নং’ শব্দটি বাদ দিয়ে ধর্মপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামকরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’