শহরের পিডিবিভূক্ত বিদ্যুৎগ্রাহকদের প্রি-পেইড মিটার লাগানোর উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। প্রি-পেইড মিটার লাগানো হলে বিদ্যুতের অপচয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে আসবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ চুরির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাত করে মিল-ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন বাসা বাড়িতেও প্রকৃত ব্যবহারের চাইতে অনেক অনেক কম বিল পরিশোধ করেন বহু গ্রাহক, এমন অভিযোগ রয়েছে সাধারণ্যে। প্রি-পেইড মিটার লাগানো হলে এই চুরি কমে যাবে। তবে কথা হলো বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রি-পেইড মিটার সব জায়গায় অর্থাৎ বাণিজ্যিক, আবাসিক ও শিল্পÑ সকল খাতে শতভাগ প্রযুক্ত করবেন কিনা সে নিয়ে। যদি কিছু ভদ্র বিদ্যুৎ গ্রাহককের বাসা বাড়িতে এই প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে দায় সাড়া হয় তাহলে এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে না। বর্তমান যুগ হলো প্রযুক্তি নির্ভর। মান্ধাতার আমলে পড়ে থাকলে সব ধরনের গতি শ্লথ হয়ে যায়। প্রি-পেইড মিটার লাগানো হলে বিদ্যুৎ প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় সাশ্রয় ঘটবে। এই ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়টি বিদ্যুতের মূল্যেও গ্রাহক অনুকূল প্রভাব ফেলবে। তাই আমরা এমন একটি কার্যক্রমের শুভ বাস্তবায়ন কামনা করি।
প্রি-পেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়। শহরে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচী পালনেরও খবর পাওয়া গেছে। আমাদের মনে হয়, জনমনে এই ভীতির কোন কারণ নেই। সম্ভবত অনেকেই প্রিপেইড মিটারের ভাল দিকটি সম্পর্কে অবগত নন। যেকোন নতুন কাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিভ্রান্তি কাজ করে। এসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব থাকে জনমনে সৃষ্ট ভীতিভাব দূর করতে প্রচারণা চালানো। আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা নির্ভর পিডিবি এই ক্ষেত্রে যে উপযুক্ত কাজটি করেনি তা বলাই বাহুল্য। শহরে পুরাতন মিটারের পরিবর্তে নতুন মিটার লাগানো হবে, এই বিষয়টি তাদের নানাভাবে গ্রাহকদের বেশ আগেই জানিয়ে দেয়া উচিৎ ছিল। নতুন প্রযুক্তির ফলে কী ধরনের সুফল পাওয়া যাবে সে নিয়ে তারা গ্রাহক সমাবেশ ও গণমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু তারা এর কিছুই করেন নি। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দেয়া বক্তব্য থেকে প্রিপেইড মিটার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেই বুঝা যায়। কারণ তারা বলছেন, এই ব্যবস্থায় ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেয়ার সুবিধা থাকবে, ব্যালেন্স না থাকলেও ছুটির দিন কিংবা রাতের বেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে না।
একটি কথা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, শুধু প্রিপেইড মিটার বসালেই সমস্যার সমাধান হবে না। আসল কাজ হলো পর্যাপ্ত পরিমাণ বিদ্যুতের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যা ইদানিং অমাবস্যার চাঁদ হয়েই রয়েছে। গ্রাহক পয়সা দিয়ে যে সেবা ক্রয় করবেন সেখানে সেবাদাতাকে উপযুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আর সেটি না করে ‘ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল দেওয়ার গোঁসাইর’ মতো ব্যবস্থাপনার নাগপাশে গ্রাহকদের কেবল বাঁধতে থাকলে তার ফল হবে উল্টো। এই বিষয়টি বিদ্যুৎ আধিকারিকদের ভালভাবে বুঝতে হবে।
সবশেষ কথা হলো, ছোট্ট এই জেলা শহরটিতে প্রিপেইড মিটার লাগাতে এক বছর সময় লাগবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে। এই গতি নিশ্চয়ই কচ্ছপের গতিকেও হার মানাবে। এই গতি বাড়াতে হবে।