- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ নিয়ে শহরবাসীর ত্রিশংকু অবস্থা

বিন্দু তালুকদার  
প্রচন্ড গরমে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে জনজীবন অতীষ্ট হয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের পাশাপাশি গত দুইদিন ধরে পানি সংকটে ভোগছেন পৌর এলাকার প্রায় ১৮০০ গ্রাহক। লোডসেডিংএর কারণে প্রায় ২৫ হাজার বিদ্যুৎগ্রাহক ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১৮০০ পানিগ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পৌরসভার পানি সরবরাহ শাখার দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের ‘লো’ ভোল্টেজের কারণে পৌরসভার পানি উত্তোলনের দু’টি পাম্প গত বৃহস্পতিবার পুড়ে যায়। এতে করে গত শুক্রবার ও শনিবার  গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। পানির এই সমস্যা আজ রবিবার ও আগামীকাল সোমবারও থাকবে। পানি সরবরাহে সৃষ্ট অনাকাক্সিক্ষত সমস্যার বিষয়টি শহরে মাইকিং করে গ্রাহকদের জানানো হয়েছে।
জানা যায়, রমজান মাসে জেলার চাহিদামত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীড থেকে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু গত ৩-৪ দিন ধরে ১৮ ঘণ্টার বেশী বিদ্যুৎ পাননি সুনামগঞ্জের কোন গ্রাহক। প্রতিদিনই দিনে বা গভীর রাতে কোন না কোন সময়েই লোডসেডিং হচ্ছে। গরমে দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও বিদ্যুতের লোডসেডিংএর কবলে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।
তবে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, সুনামগঞ্জে এখন বিদ্যুতের লোডসেডিং হয় না। অফিসের কর্মচারী সংকট ও শহরের অভ্যন্তরীণ ৫ টি ফিডারের সব কয়টি লাইন-ই জরাজীর্ণ হয়ে আছে। বৃষ্টি হলেই লাইনে  বা ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দেয়। ত্রুটি সারানোর লোকজন দ্রুত কাজ না করায় মাঝে মাঝে গ্রাহকদের কিছু ভোগান্তি দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় গ্রীড থেকে সুনামগঞ্জ শহরসহ আশপাশের ২৫ হাজার গ্রাহকের জন্য বুধবার ৯ মেগাওয়াট, বৃহস্পতিবার ৮ মেগাওয়াট, শুক্রবার ১০ মেগাওয়াট ও শনিবার ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এই ২৫ হাজার গ্রাহককে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও ১০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ লাগে না। অথচ বুধবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার ছিল একই অবস্থা। প্রত্যেক দিন গড়ে সবক’টি ফিডারে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এতে করে গ্রাহকরা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
ঘোলঘর এলাকার গৃহীনী মনিকা রানী দাস বলেন,‘ দুই দিন ধরে পৌরসভার সাপ্লাইয়ে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। রান্না-বান্নাসহ সব কাজের পানিই নদী থেকে আনতে হচ্ছে। নদীর পানিতে পলি মাটি থাকায় তাও সব কাজে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। পানির জন্য কি যে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে তা বলে বুঝানো যাবে না।’
শহরের ষোলঘর এলাকার উন্নয়ন সংগঠক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন,‘রমজান মাস চলছে কিন্তু বিদ্যুতের কারণে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে মানুষ। মাঝ রাতেও বিদ্যুৎ চলে যায় এমনকি সেহরি খাওয়ার সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। গত দুই দিন ধরে বিদ্যুতের সাথে যুক্ত হয়েছে পৌরসভার পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার ভোগান্তি। পৌরসভার পানি উত্তোলনের সাবমারজিবল পাম্প নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত জরুরী ভিত্তিতে পানি সরবরাহ করার জন্য একটি বিকল্প পাম্প মওজুদ রাখা।  
পৌরসভার পানি শাখার তত্ত্বাবধায়ক পূর্নেন্দু দাস মঞ্জু জানান, বিদ্যুতের লো ভোল্টেজের কারণে পানি উত্তোলনের দু’টি সাবমারজিবল পাম্পই পুড়ে গেছে। পাম্প দু’টি মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রবিবার বিকাল বা সোমবার সকালে একটি পাম্প সুনামগঞ্জে চলে আসবে। এর পর মঙ্গলবার থেকেই পৌরবাসীকে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হবে।’
পানি উত্তোলনে পাম্প লাইনে চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহে বিদ্যুৎ বিভাগের ভূমিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘এনিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। তারা আমাদের জানিয়েছেন ভোল্টেজ বাড়ানো তাদের দ্বারা সম্ভব নয়। এটা নাকি ঢাকা থেকে করতে হবে।’
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন,‘বিদ্যুতের লো ভোল্টেজের কারণে পৌরসভার পানি উত্তোলনের মটর নষ্ট হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। বিদ্যুতের কারণে এটা হয়েছে বলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানান নি। লো ভোল্টেজের কারণে পানি উত্তোলন করতে সমস্যা হয় এই বিষয়টি পৌরসভা আমাকে মৌখিক বা কোন চিঠি দিয়েও অবগত করেন নি। ’
বিদ্যুৎ ভোগান্তির বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন,‘সুনামগঞ্জের ২৫ হাজার গ্রাহকের জন্য ১০ মেগাওয়াটের বেশী বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। আমরা জাতীয় গ্রীড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছি। অফিসের জনবল সংকট রয়েছে, একই সাথে শহরের এবং শহরতলির বিদ্যুৎ লাইন-ই জীর্ণ-শীর্ণ। অনেক ট্রান্সফরমারের অবস্থাও খারাপ। জাতীয় গ্রীড লাইন থেকে আমার দেয়া বরাদ্দ থেকে যদি বিদ্যুৎ না কমানো হয় তাহলে এখন জেলায় কোন লোডসেডিং হয় না। আমরা প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারি। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ লাইন ও জনবল সংকটের কারণে আমাদের প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়। ত্রুটিপূর্ণ লাইন মেরামতের কাজ চলছে। জনবল সংকটের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বারবার বলা হচ্ছে। কিন্তু জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। ’

  • [১]