বিন্দু তালুকদার
পবিত্র রমজান মাস চলছে। মুসলমান সম্প্রদায়ের সকল লোকজন সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতার করেন। কিন্তু গত দুই দিন ধরে ইফতারের আগে-পরে কিংবা ইফতারির সময় বিদ্যুৎ থাকছেনা শহর এবং শহরতলীতে। বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে ও অন্ধকারেই ইফতার করতে হচ্ছে মুসল্লিদের।
শুধু ইফতারীর সময়ই নয়, রাতে সেহেরীর সময় থেকে দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত দুই দিনের ৪৮ ঘণ্টার অধিকাংশ সময়ই শহরে বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ১৬ হাজার সংযোগের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ।
কেন দুইদিন ধরে ইফতারের সময় ও দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে এটি গ্রাহকদের জানানো হচ্ছে না। বিদ্যুৎ ভোগান্তি নিয়ে সকল শ্রেণীর গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও বিদ্যুৎ ভোগান্তি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। সাধারণ মানুষও বিদুৎ বিভাগের লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে গালমন্দ করছেন।
শহরের হাসননগরের বাসিন্দা মোবাইল সার্ভিসিং-এর ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ অমানবিক আচরণ করছে। গত দুই দিন ধরে ইফতারীর সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। অন্ধকারেই ইফতার করছে হচ্ছে। এছাড়াও দিনে ও রাতে বিদ্যুৎ থাকে না। কি কারণে দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, তা জানানোর প্রয়োজন মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুতের অভাবে সারা দিন কোন কাজই করা যায় না।’
শহরের ষোলঘরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা লেখক সুখেন্দু সেন হারু নিজের ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন,‘গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটা থেকে টানা নয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই শহরের প্রায় মধ্যস্থল ষোলঘরের একাংশে। টিভি বন্ধ, খেলা দেখাও বন্ধ। মোবাইলে চার্জ নেই, খেলার কোন আপডেটও জানা গেলো না। গরমে পাখা বন্ধ, মটর চালানো গেলো না, তাই পানিও নেই। ফ্রিজ বন্ধ, ছাত্রের লেখাপড়া বন্ধ। রোগীর উচাটন, আর অন্ধকার গরমে সকলের কেবল হা হুতাশ। গভীর রাতে বিদ্যুৎ এলেও স্থায়ীত্ব রইলো না। একবার এলো, আরেকবার গেলো। আজ (সোমবার) সকাল ৮ টা থেকে স্থায়ী যাওয়াই গেলো। সকালের জলও আর তোলা হলো না। শহরের কেন্দ্রস্থলে বসবাস করে যদি এমন প্রতিকারহীন ভোগান্তি পোহাতে হয় তাহলে জেলা শহর, পৌর শহরে বসবাস কেনো। মন চায় শহর ছেড়ে মদনপুর, নয়তো আমবাড়ি গিয়ে বসত গড়ি।’
ডিএস রোডের ব্যবসায়ী সৈয়দ ইমন বলেন, ‘বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসার বারোটা বাজবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। সারা দিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গত দুই দিন মোমবাতি জ্বালিয়ে ইফতার করতে হয়েছে। কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকেনা, তা মাইকিং করে জানানোও হচ্ছে না। ’
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কবি রোকেস লেইস বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে ইফতার ও সেহেরীর সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মানুষ চরম ভোগান্তি শিকার হচ্ছে। বিদ্যুৎ লাইনে যে কোন সমস্যা হতেই পারে। তবে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে গ্রাহকদের জানানো উচিত। না হলে বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে।’
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম এর সাথে কথা বলতে চাইলে সরকারিভাবে ব্যবহৃত গ্রামীণ ফোন এর (মোবাইল ফোনটি) নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বে থাকা আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘ষোলঘর ফিডারে ২ দিন ধরে সমস্যা ছিল। রবিবার ইফতারের পর সমস্যা হলে রাত ১২ টার পর সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। সকাল ৮ টায় আবার বিকল হয়ে পড়ে, ৪ টায় চালু হয়। অন্যদিকে, রবিবার ইফতারের সময় থেকেই ৩৩ কেভি লাইন বিকল হয়। দিনে বার বারই এই লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। ইফতারের আগে আরেকবার ৩৩ কেভি লাইন বিকল হলে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পল্লী বিদ্যুতের লাইন থেকে বিদ্যুৎ এনে কিছু সময় চালু করা হয়। এক পর্যায়ে ঐ লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে আবারও শহরে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।’