স্টাফ রিপোর্টার
চারদিন হয় সুনামগঞ্জ শহরে বিদ্যুৎ ভোগান্তি বেড়েছে। বিদ্যুৎ থাকে না আধাঘন্টা থেকে একঘন্টা পর্যন্ত। শারদীয় দূর্গোৎসবের এসময়ে এমন লোডশেডিংয়ে বিরক্ত পৌরবাসিন্দারা। শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন ভোগান্তিতে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ পৌর শহরে প্রতিদিন ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়ার কোনো ঘটতি না থাকলেও পৌরশহরে গেল চারদিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। হাজীপাড়া বিদ্যুৎ অফিস থেকে ষোলঘর এবং হাজীপাড়া বিদ্যুৎ অফিস থেকে বেতগঞ্জ ফোল্ডারেও বিদ্যুৎ ভোগান্তি আছে। এছাড়া ষোলঘর-আমবাড়ী, হাজীপাড়া- নতুন জেল লাইনেও লোডশেডিং হচ্ছে। আধাঘন্টা থেকে একঘন্টা সময়জুড়ে বিদ্যুৎহীন থাকে পুরো শহর। প্রচ- গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এমন অসহনীয় যন্ত্রণায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন শারদীয় দুর্গোৎসবের পূজারীরাও। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
সুনামগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, বেশ গরম পড়েছে। দিনের গরমের উষ্ণতা রাতেও থাকে। এতে ফ্যানের বাতাসই ভরসা। গেল কয়েকদিন সন্ধ্যা হলে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে গরমে আর পড়া হয় না। মনে করি বিদ্যুৎ আসলে আবারও টেবিলে বসবো। কিন্তু বিদ্যুৎ আসলে আর পড়তে ভালো লাগে না।
এদিকে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা চলছে এখন। এজন্য পাড়ায় পাড়ায় লোকজনের উপস্থিতি বেড়েছে। পৌর শহরের ২৩ ম-পে সাজসজ্জা, লাইটিং এ উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। কিন্তু সন্ধ্যায় বিদ্যুতের এমন গোলযোগ উৎসবের এমন আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে।
পূজা উদযাপন কমিটির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গোৎসবের ম-বগুলোতে আলোকসজ্বা করা হলেও জেনেরেটর সুবিধা নেই। নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার বাড়তি সর্তকর্তাও নেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সন্ধ্যায় হঠাৎ লোডশেডিংয়ের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। কারণ পুরো ম-পে অন্ধকার থাকায় বখাটেদের উৎপাতের ভয় থাকে।
নতুন পাড়ার বাসিন্দা অভিজিৎ রায় বললেন, সুনামগঞ্জ জেলা শহরেই সন্ধ্যা হলে যদি বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে উপজেলা পর্যায়ের গ্রামগুলোর কি অবস্থা হবে। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে বড় কোনো শিল্প কলকারখানাও নেই। এ শহরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে গিয়ে লোডশেডিং হওয়া দুঃখজনক। এছাড়াও আমাদের দুর্গোৎসব চলছে এখন। অনন্ত উৎসবের কয়েকটা দিনে যেনো নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় সে দাবি তার।
ষোলোঘরের বাসিন্দা কাঞ্চন বৈদ্য বললেন, দু-একঘন্টার ব্যবধানে দুই তিন বার লোডশেডিং হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়নের এতো কিছু করেও লোডশেডিং থেকে রেহাই পাচ্ছি না আমরা। এসব তেলেসমাতি কা- বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। সামনে শিক্ষর্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। তাদের এখন পড়াশুনার সময়। আমরা শহুরে মানুষের যাপিত জীবনের সঙ্গে বিদ্যুৎ এমনভাবে মিশে আছে লোডশেডিং হলে আর পড়তে পারি না। বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষা করতে হয়।
সুনামগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল বনিক বললেন, বিদ্যুতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলাম দুর্গোৎবের সময়ে যেনো নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকে। কিন্তু গতকালও সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেছে।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকরাম হোসেন চৌধুরী বললেন, সিলেটে একটি পাওয়ার স্টেশন বন্ধ হয়েছিলো। পরে সুনামগঞ্জ গ্রিড থেকে লোডশেডিং করতে বলা হয়েছিল। এজন্য আমরা লোডশেডিং করেছি। সোমবার রাত থেকে সব ঠিক হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।