বিশেষ প্রতিনিধি
জগন্নাথপুর, দিরাই ও বিশ^ম্ভরপুর (চতুর্থধাপে) উপজেলার ২১ ইউনিয়নের নির্বাচন ২৬ ডিসেম্বর। জেলা নির্বাচন অফিসের ভোট গ্রহণ প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে । শেষ মুহূর্তে বিদ্রোহীদের চাপে রয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীতরা। এই সুযোগে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঠে আসছেন স্বতন্ত্রের মোড়কে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতারা। বিএনপি নেতারা দিরাইয়ের ৯ ইউনিয়নের ৮ ইউনিয়নেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। তিন উপজেলার ২১ ইউনিয়নে ১২৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বিশ^ম্ভরপুরের ৫ ইউনিয়নে ৩১, জগন্নাথপুরের ৭ ইউনিয়নে ৩৭ এবং দিরাইয়ের ৯ ইউনিয়নে ৫৯ চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে চরনারচর, রাজানগর, তাড়ল, ভাটিপাড়া, সরমঙ্গল, জগদল, কুলঞ্জ ও রফিনগর ইউনিয়নে দলীয় বিদ্রোহীর চাপে রয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা। এই ইউনিয়নগুলোর মধ্যে ভাটিপাড়া ছাড়া অন্যগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতারা মূল লড়াইয়ে ওঠে আসার প্রাণপণ চেষ্টায় রয়েছেন। করিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই জমেছে বিএনপির মোড়কে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীর।
বিশ^ম্ভরপুরের ৫ ইউনিয়নের মধ্যে কেবল সলুকাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। পলাশ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীকে ঠেকাতে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী তৎপর। মূল লড়াইয়ে ওঠে এসেছেন এরা। ধনপুরে বিদ্রোহীর চাপে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঠে এসেছেন। বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বিদ্রোহীর চাপে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনীত, বিদ্রোহী, জাপা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতার লড়াই জমেছে। ফতেপুর ইউনিয়নেও বিদ্রোহীর চাপে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমবে আওয়ামী লীগের দলীয়, বিদ্রোহী ও জাপা প্রার্থীর মধ্যে।
জগন্নাথপুর উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে কলকলিয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর (বিএনপি নেতা) মধ্যে, পাটলী, সৈয়দপুর, রানীগঞ্জ, চিলাউড়া ও আশারকান্দিতে আওয়ামী লীগ মনোনীতদের সাথে বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াই হবে। পাইলগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াই জমেছে।
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় অবশ্য বলেছেন, চার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীতরা ভালো করবেন, অন্য ইউনিয়নেও আশাবাদী তারা।
জেলা বিএনপির যুগ্মসম্পাদক, দিরাই উপজেলা যুবদলের সভাপতি মাসুক চৌধুরী বললেন, বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে যায় নি। নিজ নিজ দায়িত্বে নির্বাচন করছেন দলের নেতারা। নির্বাচনী পরিবেশ এখনো পর্যন্ত যেভাবে দেখছি, ভোটের দিন পর্যন্ত প্রশাসন সেভাবে নিরপেক্ষ থাকলে আট ইউনিয়নে বিএনপি বলয়ের প্রার্থীদের জয় হবে। এসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ভোট বিভক্ত হবে। বিএনপি ঘরানার ভোটাররা বিএনপি পরিবারের প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, আওয়ামী লীগের ভোট কোথাও কমে নি, বা বিএনপির চেয়ে কম নয়, তবে আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থী বেশি হওয়ায় ভোট বিভক্ত হতে পারে। বিদ্রোহীদের বহিস্কার ও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি দলীয় প্রার্থীদের জয় হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বলেছেন, বিশ^ম্ভরপুর, দিরাই ও জগন্নাথপুরের ভোট গ্রহণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ শেষ। নির্বাচনী সরঞ্জাম উপজেলায় উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন জুডিসিয়াল এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ র্যাব, বিজিবি ও স্টাইকিং ফোর্স কাজ করবে। আগের ধাপের মতোই ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ অবাধ এবং নিরপেক্ষ হবে।