ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে হাসপাতালের শয্যায় সুন্দর আলী (৪৫) নামের ভর্তিবিহীন এক রোগীর মৃত্য ঘটেছে। হাসপাতালের রেজিষ্টারভুক্ত নয়, অথচ পুরুষ ওয়ার্ডের একটি শয্যায় বিনা চিকিৎসায় ওই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বুধবার রাতে হাসপাতাল থেকে সুন্দর আলীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কান্দিরগাঁও গ্রামের সুরুজ মিয়ার পুত্র। সুন্দর
আলী পেশায় রিক্সা চালক ছিলেন।
জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবারও রিক্সা নিয়ে শহরে বের হয় সুন্দর আলী। ওই দিন সন্ধ্যায় রিক্সা চালানো অবস্থায় পেটে ব্যথা অনুভব করলে তাতিকোনা গ্রামের আব্দুস শুকুর ও টুনু মিয়া তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত ডা. আজাদুর রহমান ও মেডিকেল সহকারি ফারুকুল ইসলাম উপযুক্ত অভিভাবকের অজুহাত দেখিয়ে রোগিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে রাজি হননি। এক পর্যায়ে অসহনীয় ব্যথায় অস্থির হয়ে হাসপাতালের একটি শয্যায় নিজেই শুয়ে পড়লে ওয়ার্ড বয় আবু সাইদ তার গায়ে একটি কম্বল জড়িয়ে দেয়। মঙ্গলবার ও বুধবার হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করলেও রিক্সাচালক সুন্দর আলীকে কোন চিকিৎসা দেয়া হয়নি।
পাশের বেডের রোগি কোম্পানীগঞ্জের ইছাকলস গ্রামের মৃত রহমত আলীর পুত্র আমির আলী ও ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের দিঘলী-ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের ইসমাইল আলীর স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, ওষুধের জন্য ডাক্তার-নার্সদের কাছে একাধিকবার বললেও হাসপাতাল শয্যায় শুয়ে থাকা ওই রোগীকে কোন চিকিৎসা দেয়া হয়নি।
বুধবার দুপুরে হাসপাতাল বেডেই বিনা চিকিৎসায় সুন্দর আলীর মৃত্যু ঘটলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। ওয়ার্ড ক্লিনার অঞ্জনা রানী ও শুক্লা রানী লাশটি হাসপাতালের বেড থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. অভিজিৎ শর্ম্মা জানান, ওই রোগি হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন বুধবার দুপুরে। এসময় তাকে অভিভাবক নিয়ে আসার জন্যে বলা হয়েছে। কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যে তিনি হাসপাতালেই মৃত্যুবরণ করেন।
ছাতক-দোয়ারা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মো. দোলন মিয়া জানান, খবর পেয়ে লাশ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে ওই লোকের লাশ তার নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।