স্টাফ রিপোর্টার
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা। তাহিরপুরের জাদুকাটার উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলছে পতাকাবাহী মন্ত্রীর গাড়ি। সামনে পুলিশের, পেছনে জেলা প্রশাসনের গাড়ি। শত শত গাড়িকে পেছনে ফেলে যানজট অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে চলছিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে বহনকারী এই গাড়িবহর। কিন্তু প্রশাসন ও পুলিশ নিয়ে সব সময় পারা যায় না। একসময় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চাতারকোনা গ্রামের কাছে তীব্র যানজটে আটকা পরে মন্ত্রীর গাড়ি। বাধ্য হয়ে মন্ত্রীর গাড়ি ফেরাতে হয় সুনামগঞ্জ।
যানজটের কবলে পরে মন্ত্রী এসময় গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। উঠে পড়েন রাস্তার পাশের চাতারকোনা গ্রামের গৃহস্থ
কলু মিয়ার বাড়িতে। বেলা প্রায় ১১ টার কাছাকাছি হলেও ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় কলু মিয়ার বাড়ির লোকজন কেউ সজাগ আবার কেউ ঘুমেই ছিলেন। তারা স্বপ্নেও কল্পনা করেননি এক মন্ত্রী, একজন সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তার বাড়ির অতিথি হবেন।
কলু মিয়ার বাড়ির লোকজন মন্ত্রী, এমপিসহ কাউকেই চিনতেও পারেননি। মন্ত্রীর সাথে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কলু মিয়ার বাড়ির লোকজনকে বলেন উনি পর্যটন মন্ত্রী মহোদয়। তাড়াতাড়ি বসার ব্যবস্থা করেন। কলু মিয়া ও আশপাশের বাড়ির লোকজন দৌঁড়াদৌঁড়ি করে মন্ত্রী, এমপি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য প্লাস্টিকের চেয়ার সংগ্রহ করে আনেন। মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সংসদ সদস্য অ্যাড. শামসুন্নাহার বেগম শাহানা,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম কলু মিয়ার বাড়ির বরান্দায় বসেন এবং লোকজনের সাথে সৌজন্য কথাবার্তা বলেন।
মন্ত্রী মেনন, এমপি শাহানা রব্বানীসহ সকল অতিথিগণ বেশ কিছু সময় কলু মিয়ার বাড়িতে বসে আবার সুনামগঞ্জে ফিরে আসেন। চাতারকোন গ্রামের লোকজন এসময় মন্ত্রীকৈ দেখার জন্য বাড়ির আশপাশে ভিড় করেন। গ্রামের সকলেই কলু মিয়ার বাড়িতে মন্ত্রীর কিছুক্ষণের আতিথেয়তা গ্রহণে খুশি হয়েছেন।