- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিপজ্জনক অবস্থায় দুলতা সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল করছে

স্টাফ রিপোর্টার
উপজেলা সদরের সাথে দু’টি ইউনিয়নের প্রধান যোগাযোগ সড়কের মাঝে একটি সেতু। সেতুর মাঝ অংশের কিছু জায়গা ধসে পড়ে গেছে গত কয়েক মাস আগে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই সেতু মেরামত করতে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বিপজ্জনক এই সেতুর উপর দিয়ে শত শত যানবাহন ও হাজারো পথচারী আসা যাওয়া করছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ভীমখালী ইউনিয়নের উপর দিয়ে আটগাঁও (লালবাজার-কারেন্টের) বাজার হয়ে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিনাজুরা-লক্ষীপুর যাওয়ার পাকা সড়কের ফেকুল মাহমুদপুর গ্রামের সামনের সেতুর উত্তর-পূর্ব দিকে এই দশা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন সেতুর ভাঙা অংশ মেরামত করতে মাত্র কয়েক হাজার টাকা লাগবে। অথচ সেতু মেরামতের কোন উদ্যোগ নেই কারও। একটু জায়গা ভাঙা মেরামত না করে সেতু ভেঙে নতুন করে তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে উপজেলা এলজিইডি অফিস। এতে সরকারের অনেক টাকার প্রয়োজন হবে এবং এই রাস্তায় চলাচলাকারীদের   
 দীর্ঘদিনের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে।  
সরেজমিনে এই সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় চালকরা উত্তরদিক থেকে সেতুর উপরে উঠার সময় সেতুর পশ্চিম অংশ ঘেষে উঠেন। দক্ষিণ দিক থেকে উঠার সময় একইভাবে সেতুতে উঠা-নামা করেন। পথচারীরা ঝুঁিক নিয়ে চলাচল করছেন। সেতুটি একটি বাজারের কাছে এবং সেতুর উপর দিয়ে লেগুনা, অটো রিকশা, পিকাপ, মিনি ট্রাক, ট্রলিসহ শত শত যানবাহন এবং প্রতিদিন অন্তত ৫-৭ হাজার মানুষ চলাচল করলেও সেতুর ত্রুটি সারাতে কোন উদ্যোগ নেই।  
অটো রিকশা চালক রফিক মিয়া বলেন,‘ভাই এই বিরিজের উপর দিয়া যাওনের সময় ডর করে বিরিজের অনেক জায়গা ভাঙা। আমরা গাড়ি লইয়া যাই, মানুষ হাইট্টাও যায়। অনেক দিন ধইরা এই অবস্থা কেউ ইডা ঠিক করনের লাগি কোন চেষ্টাই করে না। কোন দিন না জানি কে এই ভাঙাত পরি যাইব।’
চান্দের নগর গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন ও মাহমুদপুর গ্রামের মুরব্বী মদরিছ আলী বলেন,‘ ২৫-৩০ বছর আগে এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেতুর ভাঙা অংশ মেরামত করতে ৫-৭ হাজার টাকা লাগবে। মেরামত করলেই চলাচল করা সম্ভব হবে। এটা ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে অনেক সময় লাগবে এবং অনেক টাকার প্রয়োজন। সেতু ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হলেও দ্রুত মেরামত করা হোক।  
সেতুর পাশ্ববর্তী ফেকুল মাহমুদ গ্রামের সংবাদকর্মী আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন,‘সেতুর মাঝ অংশে কিছ ুজায়গা গত কয়েকমাস ধরেই এই অবস্থায় আছে। সেতুর উপর চলাচলের সময় মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিনিয়নতই ঝুঁিক নিয়ে চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। প্রায় দেড়মাস আসে এলজিইডির লোকজন এসে সেতু পরিদর্শন করে গেছেন। স্থানীয়দের তারা বলেছিলেন সেতুটি দ্রুতই মেরামত করা হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেতু মেরামত করা হয়নি।’
ভীমখালী ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন,‘এই সেতুর কিছু জায়গা ভেঙ্গে গেছে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকজন পরিদর্শন করেছেন। তারা জানিয়েছেন এই সেতু নতুন করে তৈরি করা হবে, ইতোমধ্যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আগামী অর্থ বছরে সেতুর কাজ হবে।’
এ ব্যাপারে এলজিইডির জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের সাথে কথা বলতে পর পর বেশ কয়েকবার তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমদ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘এলজিইডির কোন সেতু এসব পরিস্থিতিতে থাকলে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে বলে দেয়া আছে স্থানীয়ভাবে উপজেলা পরিষদে কথা বলে দ্রুত মেরামত করার জন্য। জামালগঞ্জের কোন সেতুর পরিস্থিতি যদি এরকমের হয় তাহলে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হবে। চেষ্টা করা হবে সেতুর ভাঙা অংশ মেরামত করার। ’

  • [১]